সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে ছাত্রদের স্কুল ছুট এতো বেশী কেন ?

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে ছাত্রদের স্কুল ছুট এতো বেশী কেন ?

পাঠকের কলম,  বেঙ্গল রিপোর্ট: মনিরুল ইসলাম, ও সাদিক শেখ বাড়ি কুলগাছি, ক্লাস সেভেনে প্রথম ইউনিট দিয়ে স্কুলে আর আসে নি। ফটিক সেখ, বাড়ি লস্করপুর, ক্লাস এইটে কুরবানী ঈদের পর আর স্কুলে আসে নি। নবমে ভর্তি হয়েও ১৬ জন ছাত্র রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করেনি। এটা লাল গোলার এক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের ঘটনা। ছেলেদের এই স্কুলছুট কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা হিমশৈল এর চুড়া মাত্র। এবার দেখে নিই ২০১৮ সালে মুর্শিদাবাদে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পরিসংখ্যান। ছাত্রী পরীক্ষার্থী ছিল 53196 জন, ছাত্র পরীক্ষার্থী ছিল 33137 জন। অর্থাৎ ছাত্র ও ছাত্রীর অনুপাত ৩৮.৬৮ঃ ৬১.৬২। গ্রাম এলাকায় বেশিরভাগ মাদ্রাসা/স্কুলে নবম/দশম শ্রেণীতে ছাত্র ছাত্রীর অনুপাত ১ঃ৩, বা ১ঃ২।

এখন গ্রামগঞ্জের মাদ্রাসা বা স্কুলগুলোতে প্রচুর ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। ভিড়ে উপচে পড়ছে বিদ্যালয়গুলো। ছেলেদের থেকে মেয়েরা বেশী স্কুলে আসছে। মুসলিম পরিবারগুলো মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক পড়ে কলেজেও প্রচুর মেয়ে ভর্তি হচ্ছে। আগে মেয়েদের স্কুল ছুট ছিল খুব বেশী। সেটা এখন অনেকটা কমে এসেছে। মনে হচ্ছে সমাজ এগিয়ে আসছে। কিন্তু ছেলেদের একটি বড় অংশ বিনে পয়সায় বই, ব্যাগ, খাবার, পোশাক পেয়েও স্কুল ছুট হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে এই প্রবণতা বাড়ছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই ছাত্রীর তুলনায় ছাত্রের সংখ্যা একটু কম। সপ্তম থেকে ছাত্রের সংখ্যা কমতে থাকে। এইটে আরেকটু কমে। নবমে গিয়ে সংখ্যাটা একবারে কমে যায়। কমতেই থাকে টুয়েলভ অব্দি।

ADVT BR NEWS

লালগোলা এলাকার কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনীতে ২০১৭ সালে ছাত্র ও ছাত্রীদের সংখ্যা দেওয়া হল:

Laskarpur High School:

( V-B 192, V-G 213, VI-B 243, VI-G 272, VII-B 216, VII-G 273, VIII-B 134, VIII-G 308, IX-B 109, IX-G 329, X-B 79, X-G 213

Sekhalipur High School :
712 794 347 379 292 274 229 323 197 339 173 335

Horipur S.H. Madrasa :
202 255 139 232 95 240 57 207 84 194 21 142

Birampur AVS Vidyamandir:
121 116 92 145 79 144 152 352 82 287 53 120

আই সি আর হাইমাদ্রাসা :
244 257 215 240 169 370 113 241 143 451 135 221

এই ছাত্রের সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে পারস্পারিক কয়েকটি কারণ আছে বলে আমি মনে করি :

অবশ্যই প্রথম কারণ পড়ার প্রতি, বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া। সাধারণত লেখাপড়ায় যারা ভালো, বা যারা বাংলা ইংরেজি পড়তে পারে তারা সহজে স্কুল ছুট হয় না। কিন্তু যারা মাতৃভাষা পড়তে পারে না, যাদের অক্ষর জ্ঞান নেই তারাই বেশী স্কুল ছুট হয়। পাস ফেল না থাকায় প্রাথমিকে চারটি বছর কাটিয়ে হাইস্কুলে হাজির হয় ওরা। তারপর তর তর করে অষ্টম। কিন্তু আধিকাংশই মাতৃভাষা পড়তে পারে না। পঞ্চমে পারে না, ষষ্ঠতে পারে না। অষ্টমেও পারে না।
এই ধরণের পিছিয়ে পড়া শিক্ষারথিদের কে আলাদা করে শেখানোর ব্যাবস্থা কোথায়? হাতে গোনা দু চারটি উচ্চবিদ্যালয় বাদ দিলে এই বিশাল সংখ্যক পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের আলাদা করে মাতৃভাষা, বেসিক অঙ্ক বা ইংরেজি উচ্চারণ করে পড়া শেখানোর ব্যাবস্থা নেই বললেই চলে।

বিদ্যালয় আসলেও ক্লাসে এইসব পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ারা গুটিয়ে থাকে। দিনের পর দিন পড়া না পারতে পারতে, উপেক্ষিত হতে হতে এরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। হীনমন্যতায় ভোগে। ভয়ে ভয়ে থাকে এই কখন স্যার পড়া ধরল। এই কখন স্যার ধমক দিল। অন্যদিকে এদের প্রতি যত্ন ও অধিক মন যোগ দেওয়ার পরিবর্তে আমরা এদের অবহেলা করি। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। ১৫০/১৬০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাসে ইচ্ছে থাকলেও হয়তো মনযোগ দেওয়া যায় না। শিক্ষক/শিক্ষিকা অনেক সময় বুঝতে পারেন না, কোন ধরণের শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে পড়াবেন। কারণ ক্লাসে সব ধরণের শিক্ষার্থী আছে, পিছিয়ে পড়াদের সাথে ওই শ্রেণীতে পড়তে সক্ষম ২০% মেধাবী শিক্ষার্থী আছে। আধিকাংশ শিক্ষকই ক্লাসের নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়ান। ফলে বাদবাকি ৮০% পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের সাথে ছাত্র-শিক্ষক সম্পরক তৈরি হয় না। কারণ সে তো ইংরেজি দূরের কথা বাংলাই রিডিং পড়তে পারে না। ইতিহাস, ভূগোল, অংক, পরিবেশ এর কোন পাঠেই এরা যুক্ত হতে পারে না। ক্লাসে মাছির মতো বসে থাকে। ক্লাস হয়ে ওঠে এদের কাছে যন্ত্রণা। একধরনের শাস্তি। তাই এদের সবসময় স্কুল থেকে পালাই পালাই ভাব।

বাড়িতেও এদের দিকে তাকাবার কেউ নেই। দরিদ্র বাবা কাজের জন্য বাইরের কোন রাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজে নিযুক্ত। মা লেখাপড়া জানেন না। বিড়ি বাঁধেন। এবং মেয়েদেরকে বিড়ি বাধায় হাত লাগাতে বলেন। ছেলে/মেয়েকে কোনরকম টিউশন পাঠিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ, বলে ধরে নেন। বলেন, ‘পাইভেট তো দিয়্যাছি, সার। আর কি ক্যরবো বুলেন ‘ ওখানেও শেখে না। কেউ দায়িত্ব নেয় না এদের। এই ভাবে ওরা আগ্রহ হারায় পড়ার প্রতি, বিদ্যালয়ের প্রতি। তাই একটা সময় মিড ডে মিল, বিনেপয়সার বই, ব্যাগ, সাইকেল এদেরকে আর বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে পারে না।

এই যুক্তি অনুযায়ী ছাত্রীদেরও স্কুল ছুট হওয়ার কথা। হয়। কিন্তু ছেলেদের তুলনায় খুব কম। কারণ ছেলেদের সুযোগ আছে কোন কাজে লেগে পড়ার, উপার্জন করে পরিবারকে সাপোর্ট করার। মেয়েদের ক্ষেত্রে বিড়ি বাঁধা ছাড়া অন্য কোন সমস্যা নেই। বাল্যবিবাহে স্কুলছুট হয়, কিন্তু কন্যাশ্রী, কন্যাশ্রী যোদ্ধা, এবং বাল্যবিবাহ বিরোধী অভিযান ইত্যাদির কারণে বাল্যবিবাহ অনেকটাই কমেছে। তাছাড়া বিয়ের বাজারে একটু শিক্ষিত মেয়ের চাহিদা আছে। লেখাপড়া না জানা রাজমিস্ত্রি যুবকও চায় একটি লেখাপড়া জানা বউ।
অন্যদিকে ছেলেদের স্কুল ছুট হওয়ার একটি বড় কারণ দারিদ্র এবং আর্থ সামাজিক। স্কুলছুট ছাত্রদের আধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসে। তীব্র অভাব অনটনের পাশা পাশি আছে বাবা মায়ের অসচেতনতা, ও লেখাপড়া না জানা।

এসব এলাকায় লোকসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশী। সে তুলনায় কাজ নেই। কাজ বলতে কৃষি। যাতে এখন অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যাবহারে শ্রম কম লাগছে। আবার লেখা পড়া করা উচ্চমাধ্যমিক বা সাধারণ গ্রাজুয়েট যুবকদের জন্য তেমন কোন কাজ নেই এখানে। না আছে শিল্প কারখানা। না আছে কাজ করে উপার্জন করার কোন ক্ষেত্র। ফলে তথাকথিত শিক্ষিত বেকাররা না পারে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে, না পারে পানের বা চপের দোকান চালাতে। মাসিক ৩ হাজার/ ৪ হাজার টাঁকার বিনিময়ে তারা কাজ নেয় গ্রামে গ্রামে গজিয়ে ওঠা নার্সারি স্কুলে, কোচিং সেন্টারে, মিশন স্কুলে বা ব্যাবসায়ীর গদিতে। ওরা হতাশায় ভুগে জীবন কাটায়। আর চোখের সামনে দেখে ওর রাজমিস্ত্রি সহপাঠীরা ঈদে বাড়ী এসে বাইক হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে।

তাই মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম এলাকায় রাজমিস্ত্রি একটি লোভনীয় পেশা। ভিন রাজ্যে বিশেষ করে, কেরলে এবং তামিলনাড়ুতে এরা মাসে ১৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে নির্মাণ শিল্পে এবং অনান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে।

এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আধিকাংশ দরিদ্র বাবা মা যখন ছেলেকে স্কুলমুখী করতে পারে না তখন ১৩/১৪ বছর বয়সেই রাজমিস্ত্রির কাজে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবে। যেতে উৎসাহও দেয়। ছেলেরও ভালো লাগে। ভালো না লাগার বই, বা অনুভুতিহীন কর্কশ গলার স্যার বা যন্ত্রণার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ওরা শহরে যেতে পায়। রঙিন জীবন দেখে। গ্রামের একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি মেলে। উপার্জন করতে পারে। খরচ করতে পারে। অল্প বয়সে উপার্জনের মজাই আলাদা। বাড়িতে ফিরে আসলে উপার্জনক্ষম পুত্রের প্রতি মায়ের ব্যাবহারটা যেন আরও মিষ্টি ও স্নেহপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেটা অভাবের সংসারে আগে হত না। এদিকে রাজমিস্ত্রির কাজ করে দারিদ্রে ধুঁকতে থাকা পরিবারগুলোর নিত্য অভাব ঘুচছে। ছেলেগুলো কাজ পাচ্ছে। গ্রামগুলো পাল্টাচ্ছে। কাঁচা বাড়ীর জায়গায় পাকা বাড়ী হচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে টিভি, মোটরসাইকেল হচ্ছে। এইভাবে কখন মুর্শিদাবাদ হয়ে ওঠে রাজমিস্ত্রিবাদ। হয়ে ওঠে ভারতবর্ষের সব থেকে বড় রাজমিস্ত্রি সরবারহ কারি জেলা।

আশংকার কথা স্কুলছুট হয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে কেরল, তামিলনাড়ু যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কমার কোন কারণ বা লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। তবে সব স্কুলছুট ছাত্র রাজমিস্ত্রির কাজে যায় তা নয়। দরিদ্র মা বাবাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়েই ষষ্ঠ বা সপ্তমেই চারপাশে গজিয়ে ওঠা ইটভাটার কাজে লেগে পড়ে, বা মোটর সাইকেল গ্যারাজে কাজে লেগে পড়ে।

এমন নয় যে স্কুলছুট ছেলেগুলো সবাই ভোঁতা, বুদ্ধিহীন, বোকা। বরং ওদের বেশীরভাগই বুদ্ধিমান। কারণ এরাই একদিন দক্ষ মিস্ত্রি, ঠিকেদার হয়ে ওঠে। বাড়ি তৈরির ব্যাবহারিক বুদ্ধিতে ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে টেক্কা দেয়।

এই স্কুলছুট প্রবণতা কমানোর কিছু উপায় আছে বলে আমি মনে করি:
————————————————————————-
১) প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় সর্বত্র ছাত্র শিক্ষক আনুপাত হতে হবে ৪০ঃ১, পড়াশুনা করার যাবতীয় পরি কাঠামো সরবরাহ করতে হবে। ৫ বছর পর পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী আতিরিক্ত শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করতে হবে। কোন স্কুলের উদ্বৃত্ত শিক্ষককে ঘাটতি থাকা স্কুলে পাঠাতে হবে।

২) প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় সর্বত্র পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ে হাজির থাকার সময়ের বাপারে প্রশাসনকে কড়া হতে হবে। এস আই অব স্কুলস, এ আই অফ স্কুলস এর পদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। স্কুলগুলিতে বার বার আচমকা ভিজিট এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উনাদেরকে গাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি, উনাদের মধ্যেও কর্ম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। কাজে অবহেলাকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিক ও শিক্ষিকাদের শাস্তি বা ইনক্রিমেন্ত আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩) প্রাথমিকের শেষে যেন শিক্ষার্থী মাতৃভাষা, ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে, ও নামতা পারে সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। মার্ক সিটে গাদা গাদা নম্বরের প্রয়োজন নেই।

৪) ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। অনেক স্কুল ক্লাস নেওয়ার বাপারে যত্ন না নিলেও বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সময় শর্ত দিয়ে দেয় ৭৫% না হলে বিজ্ঞান বিভাগের দরজা বন্ধ। এই সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব ছাড়তে হবে।

৫) আরও বেশী বেশী স্কুলে বাস্তবমুখী ভোকেশনাল কোর্স চালু করতে হবে। যেগুলো পড়ে বাজারমুখি কাজের যোগ্য কাজ যেন সহজেই পাওয়া যায় বা স্বাবলম্বি হওয়া যায়। মান্ধাতা আমলের কোর্স আর চলে না। ভোকেশনাল কোর্সকে জনপ্রিয় করার জন্য এই কোর্সে পড়া পড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপ চালু করতে হবে।

৬) উচ্চবিদ্যালয়গুলিতে নিয়মিত এবং বাস্তবমুখী কেরিয়ার কাউনসেলিং এর মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের কেরিয়ার মুখী করে তুলতে হবে। সঠিক পথে, সঠিক পদ্ধতিতে খাটলে যে সাধারণ ছেলে মেয়েরাও ভালো চাকরী পেতে পারে এটা বোঝাতে হবে। সপ্তম, অষ্টম থেকেই শিক্ষার্থীদের বোঝাতে হবে, যে রাজমিস্ত্রির কাজে যে পরিশ্রম করতে হয়, যেভাবে ওদেরকে জীবন কাটাতে হয়, তার থেকে অনেক কম পরিশ্রম করে তারা সুন্দর জীবন ও জীবিকা পাবে, যদি তারা মন দিয়ে পড়াশুনা করে। এগুলো লাগাতার করতে হবে।

৭) শ্রেণী ধরে ধরে অভিভাবিকাদের নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে হবে। বোঝাতে হবে রাজমিস্ত্রির জীবনের থেকে সুন্দর জীবন তাঁদের সন্তানেরা পেতে পারে, যদি তাঁরা সচতন হন।

8) সর্বোপরি এই জেলায় কৃষি নির্ভর শিল্প ও কারখানা গড়ার জন্য সরকার ও শিল্পদ্যোগী মানুষকে কার্যকরী ভুমিকা নিতে হবে। নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। কাজ না পেলে কাজের জন্য ভিন রাজ্যে যাওয়া চলতেই থাকবে।

সবশেষে মনে করিয়ে দিই, কয়েকবছর আগে পশ্চিমবঙ্গে এই মুর্শিদাবাদ থেকেই সবথেকে বেশী ছেলেমেয়ে ডাক্তারিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল। ( সৌজন্যে আল-আমীন মিশন) । এখানে মেধা আছে। মেধার সঠিক প্রতিপালন নেই।

( আমার প্রিয় সাংবাদিক অনল আবেদিন দাদা, ডি আই ম্যাম পূরবী দে মহাশয়ার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা।):

লেখক : মুহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম
প্রধান শিক্ষক
লস্করপুর হাইস্কুল (উঃমাঃ)
লালগোলা ,মুর্শিদাবাদ

( অনুলিখন : মোসাররাফ হোসেন )

Facebook Comments