ইমাম ও মুসলিম সংগঠনগুলির মিছিল ঘিরে গর্গ চ্যাটার্জির মন্তব্য ও কিছু কথা

পাঠকের কলম, বেঙ্গল রিপোর্ট: গত ৩ অক্টোবর তথাকথিত গর্গ চ্যাটার্জী নামক জনৈক ব্যক্তি (আদতে তিনি বাংলাদেশি) কোলকাতা ধর্মতলার সমাবেশে উপস্থিত আলেম ওলামা ও ইমাম মুয়াজ্জিনদের প্রকাশ্যে “জামাতি শুয়োর” বলে গালিগালাজ করেছিলেন। পরে আবার সাফাই গাইতে গিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বললেন, আসলে তিনি সবাইকে বলেননি বরং মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও তাঁর সমর্থকদের বলেছেন। এর কারণ হিসাবে তিনি দুটি যুক্তি খাড়া করেছেন। ১. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও তাঁর সমর্থকরা বাংলাদেশের দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী একজন ভন্ড আলেম, ১৯৭১ এর খুন, ধর্ষণকারীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা শহীদ মিনার ময়দানে সমাবেশ করেছিল।

২. বাংলাদেশে যখন সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি সরানোর আন্দোলন হয় ঠিক তাঁর সপ্তাহ দুই পর কলকাতাতেও বেকার হোস্টেল থেকে সেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি সরানোরও দাবী করে কামরুজ্জামান ও তাঁর কোম্পানিরা। তাই এদের কে আমি জামাতি শুয়োর, রাজাকার বলি।

এবার তথাকথিত সাহেব কে বলি, আল্লামা সাঈদি একজন বিশ্ববিখ্যাত আলেম, কোরআনের মুফাছছির। তাঁর মুক্তির দাবীতে শুধু কলকাতা কেন, গোটা বিশ্বব্যাপী আন্দোলন হয়েছে, খোদ কাবা শরিফের ইমাম পর্যন্ত হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছিল।
তাহলে গোটা বিশ্বের সবাই কি “জামাতি”….?

তাছাড়া সাঈদী খুন, ধর্ষণকারী তার কোনো প্রমাণ কি সাহেবের কাছে আছে??
দ্বিতীয়ত, মূর্তি বানানো বা স্থাপন করা অন্য ধর্মে স্বীকৃত হলেও ইসলাম ধর্মে  মূর্তি বানানো বা কোথাও মূর্তি  স্থাপন করা চরমভাবে নিষিদ্ধ । সুতরাং বেকার হোস্টেলের মতো স্বতন্ত্র একটি মুসলিম ছাত্রাবাসে সেখ মুজিবর রহমানের মূর্তিই বা থাকবে কেন? যা ইসলাম কখনও অনুমোদন করেনা?

গর্গের এই মন্তব্যে অনেকে হয়তো ভাবছেন যাক তাহলে ঠিক আছে ও সবাইকে তো আর বলেনি। কাজেই চুপচাপ থাকি। আমি জানতে চাই, সাঈদীর পক্ষে সেদিন বাংলার ইমাম মুয়াজ্জিন সহ প্রায় সবকটি সংগঠন এক হয়ে প্রতিবাদ করেছিল, আর বেকার হোস্টেল থেকে মুজিবরের মূর্তি সরানোর আন্দোলনে সবাই না থাকলেও এই দাবীকে সবাই সমর্থন করে এটা আমি ১০০% বিশ্বাসী। কারণ মূর্তি রাখা ইসলামে হারাম। তাহলে গর্গার ওই দুটি যুক্তি অনুযায়ী শুয়োর হতে বাকি রইলেন আর কারা? আসলে ঘোমটার আড়ালে লুকিয়ে রাখা আসল চরিত্রটা গর্গ সাহেব প্রকাশ করে দিলেন!

সেদিনের সমাবেশের কিছু সাধারণ দাবী ভুল থাকলেও মূখ্য দাবীর পক্ষে কোন ঘাটতি ছিলনা। কিন্তু বিরোধীরা সেই সাধারণ কে মূখ্য করে সমাজে ভুল বার্তা প্রচার করেছে। কিন্তু সে যতই বড় দরের মানুষ হোক, ভুলের তো সমালোচনা হতে পারে কিন্তু তাই বলে এমন কদর্য ভাষায় গালিগালাজ! এরপরও আমাদের সমাজের অন্ধজ্ঞানীরা আলেম ওলামা ও ইমাম মোয়াজ্জেনদের প্রতি কদর্য ভাষার গালিগালাজের প্রতিবাদ না করে সমাবেশের প্রতিবাদে ব্যস্ত। এই দিনটি দেখতে হবে আমরা সত্যিই ভাবিনি!

জাহাঙ্গির আলম, শিক্ষক

Facebook Comments