চলে গেলেন ফুরফুরা শরীফের অন্যতম পীর আল্লামা কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুর: তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চলে গেলেন ফুরফুরা শরীফের অন্যতম পীর আল্লামা কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুর: তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আরিফুল ইসলাম, বেঙ্গল রিপোর্ট, হুগলী: ফুরফুরা শরিফ ভারতবর্ষের এক প্রাচীনতম জনপদ বাংলা তথা ভারতবর্ষের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রাণকেন্দ্র। এই জনপদের প্রসার সমাজ তথা যুগসংস্কারক (মোজাদ্দেদ) পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ:) থেকে। যাকে “দাদা হুজুর” পীর বলে চেনে এই বাংলার কোটি কোটি মানুষ। সেই ফুরফুরা শরীফে বর্তমানে রয়েছে দাদা পীর আবুবকর সিদ্দিকর বংশধরেরা।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে আওলাদে মোজাদ্দেদে জামান মেজলা হুজুর পীর কেবলা (রহ:) এর দুই সাহেবজাদা, পীর আল্লামা “সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী” সাহেব ও পীর আল্লামা “নুর‌উদ্দিন সিদ্দিকী” সাহেব ইন্তেকাল করেন। আজ সেই বংশের আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল।

আওলাদে মোজাদ্দেদে জামান আশেকে রসুল পীরে কামেল হজরত ছোট হুজুর পীর কেবলা (র:) এর বড় সাহেবজাদা, ফুরফুরা শরীফের অন্যতম বয়ােজ্যেষ্ঠ পীর আল্লামা কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুর মঙ্গলবার রাত ১:৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। দুই পুত্র চার কন্যা স্ত্রী ভাই বােন সহ লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুগামীদের রেখে গেলেন। পরিবার সূত্রে খবর, তিনি সপ্তাহ খানেক ধরেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ফুরফুরা দরবার সূত্রে খবর তাঁর জানাজা নামাজ বুধবার দুপুর ২ ঘটিকায় নিজ বাসভবন সংলগ্নে অনুষ্ঠিত হবে‌।

বাংলার এই শূফি সাধক ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম তীর্থস্থান ফুরফুরা দরবার শরীফের পীর আল্লামা কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

পীর কলিমুল্লা সিদ্দিকীর জন্ম ১৯৪১ সালে। ১৯৬৮ সালে তিনি কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাইটেল (মাওলানা) পাশ করেন বলে জানা গেছে। কুরআন ও হাদিস সম্বন্ধে তাঁর ছিল অগাধ পান্ডিত্য। তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষের পর থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দীন ইসলামের প্রচার প্রসার করতেন। পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ ও আসামের বিভিন্ন প্রান্তে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায় ছেলে মেয়ের কিভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়েও তার একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাতাবরণের ক্ষেত্রে পীর সাহেব সব সময় তার ভক্তদের অনুপ্রাণিত করতেন।
পীর কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী প্রচারের আড়াল থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দরিদ্র অসহায় মানুষের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রেখেছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে এবং পৃথকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিলাসিতার জীবন জাপানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তিনি সহজ সরল মনের মানুষ ছিলেন। নম্র ভদ্র ব্যবহারে মানুষ অতি সহজেই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়তো। আজ তার মৃত্যু সংবাদ পাওয়া মাত্রই সারা বাংলা জুড়ে তার লক্ষ লক্ষ অনুগামীরা দিশেহারা হয়ে ফুরফুরা শরীফের দিকে ছুটে আসতে শুরু করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, গতকাল রাত থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোক বার্তা আসতে থাকে। ইতি মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত অনুগামীরা ফুরফুরা শরীফে আসা শুরু করে দিয়েছে জানাজা নামাজে সামিল হতে। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদাদের তরফ থেকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির দিকে খেয়াল করে সরকারি নির্দেশ মেনে সকলে মুখে মাক্স পড়ে আসবেন।

Facebook Comments