বেহাল স্কুল রাস্তা, প্রশাসনের উদাসীনতায় ধানচারা রোপণ করে প্রতিবাদ নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রাক্তনীদের

বেহাল স্কুল রাস্তা, প্রশাসনের উদাসীনতায় ধানচারা রোপণ করে প্রতিবাদ নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রাক্তনীদের

বিশেষ প্রতিনিধি, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রথমে দেখলে মনে হবে বর্ষাতি ধানের জমি। না, আদতে এটি কোন বর্ষাতি ধানের জমি নয়! যদি এখন রোপনেরই সময়, জমির বদলে রাস্তায় ধান রোপন করে শুক্রবার প্রতিবাদ জানালো নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রাক্তনীরা। আর ছ’মাস পরেই ঐতিহ্যমন্ডিত নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন।

কাঁথি থেকে স্কুলমুখী ছাত্রছাত্রীদের প্রধান যাতায়াতের পথ এটাই, বটতলা থেকে স্কুলে যাওয়ার রাস্তার শুরুতেই হাত ষাটেক রাস্তা আজ জনগনের যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ে রয়েছে প্রায় দু বছর ধরে। স্কুলের এই রাস্তা মেরামতির জন্য বছর খানেক আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ, এলাকার অভিভাবক ও অধিবাসীগণ মাস পিটিশন জমা দেন স্থানীয় প্রধান থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ পর্যন্ত সকল স্তরেই। কিন্তু কোন সুরাহা মেলেনি, প্রতিদিন জল কাদা ডিঙিয়ে ছাত্র -ছাত্রীদের স্কুলে যেতে হয়।

এখন লকডাউন চললেও প্রতি মাসে অভিভাবকদের চাল, আলু, মডেল অ্যক্টিভিটি টাস্ক আনতে স্কুলে যেতে হয় হাঁটি জল পেরিয়ে। অভিভাবক ছাত্র -ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল ক্রমেই। শুক্রবার বিকেলে সেই ক্ষোভ চরমে ওঠে যখন প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের মোটর সাইকেলের চাকা জল-কাদায় আটকে গিয়ে প্রায় উল্টে যাচ্ছিল, সেই সময় বটতলার দোকানের কাছে দাডিয়ে থাকা স্কুলের প্রাক্তনীরা আর নিজেদের স্থির রাখতে পারেনি। তারা রাস্তার পাশের ধান জমি থেকে চারা গাছ এনে রোপন করা শুরু করে নিজেদের ক্ষোভ উদরে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌমেন মাইতি, জয়দেব মান্না, চন্দ্রশেখর মাইতি, শিবশংকর জানা প্রমুখরা জানান, আমরা স্কুলে যেতাম এই কাদা রাস্তা পেরিয়ে, আজ দু বছর পরেও দেখছি সেই কাদা রাস্তা, তাই কাঁথি -১ বি ডি ও সাহেবের কাছে একান্ত অনুরোধ ,আমাদের ছোট ছোট ভাইবোনেদের কথা ভেবে স্কুলের রাস্তাটা যেন দ্রুত সারিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই বলেন, “স্কুলে যাওয়ার বটতলার কাছে মূল রাস্তার এই অংশটুকু মানুষ চলাচলের সত্যিই অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। প্রসাশন বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে আনুন শীঘ্রই। এই যে একাদশের ভর্তি চলবে , উচ্চ মাধ্যমিকের মার্কশীট দেওয়া হবে, অভিভাবকদের ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল চরম ভোগান্তিকর হবে।”

Facebook Comments