অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমে করোনা আবহ কাটিয়ে বেজে উঠলো অর্চনার বিয়ের সানাই: খুশির হাওয়া আশ্রম জুড়ে

অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমে করোনা আবহ কাটিয়ে বেজে উঠলো অর্চনার বিয়ের সানাই: খুশির হাওয়া আশ্রম জুড়ে

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা আবহে অন্ত্যদয় অনাথ আশ্রমে অনেক দিন বাদে ফের বিয়ের নহবতের সানাইয়ের সুর বেজে উঠলো। অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম পরিচালিত হোম স্নেহছায়া শিশু আবাসে বেড়ে ওঠা কন্যা অর্চনাকে তার আত্মজনরা নিজের বাড়িতে আশ্রয় না দেওয়ায় ঘরে ফেরা হয়নি তার। স্নেহচ্ছায়ায় নবজন্ম হয় তার। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতার হয়ে অর্চনা হয়ে ওঠে সুদক্ষ বুটিক শিল্পী।

এদিকে অর্চনার বয়স ১৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করনের। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অর্চনা জন সুপাত্রের সন্ধান খুঁজে পেলেন বলরাম করন। পাওয়া গেল সেই উদার মনের সুপাত্রকে। হোমের এই অসহায় মেয়েটিকে জীবনসঙ্গিনী করতে প্রস্তুত। আশ্রম জুড়ে খুশির আবহাওয়া। একে একে কত মেয়েকেই তো সুখী গৃহকোণের ঠিকানা খুঁজে দিলেন বলরাম করণ। এবার আরও এক কন্যা অর্চনা।

আজ১৬ ই আগস্ট বিয়ের দিন। সীমিত সাধ্যে বেনারসি শাড়ি আর সামান্য কিছু গয়নায় সেজে উঠল অর্চনা। ওদের নতুন সংসার পাতার জন্য খাট বিছানা আলমারি ও অন্যান্য দান সামগ্রী, আইবুড়োভাত থেকে সঙ্গীত, গায়ে হলুদ, জামাই বরণ ও আশ্রমবাসীদের একটু ভালো খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন কোন কিছুরই খুঁত রাখা হলো না।

আশ্রমের শুভানুধ্যায়ীরা খবরটা জানতেই জিজ্ঞাসা করলেন,” কিছু সাহায্য লাগবে কি না ?” বলরাম করণ উত্তর দিলেন, “না, এবারটা কোনমতে সামলে নিতে পেরেছি। পরে প্রয়োজন পরলে অবশ্যই জানাব।” না বলরামের যে চরিত্র তাতে কোনদিনই বলবেন না তিনি। কিছুদিন বাদেই আবার ঝাঁপিয়ে পড়বেন কোন না কোন এক অভিভাবকহীন স্বজনহারা কন্যাকে তার আপন সংসার গড়ে দেওয়ার সঙ্কল্প নিয়ে।

Facebook Comments