স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ফলে প্রাণ বাঁচলো খেজুরীর অতি দরিদ্র পরিবারের দুই অসুস্থ’র

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ফলে প্রাণ বাঁচলো খেজুরীর অতি দরিদ্র পরিবারের দুই অসুস্থ’র

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে বিরোধীরা যতই সমালোচনা করুন না কেন এর সুফল যে মানুষ পাচ্ছেন তা হাতে নাতে ফল মিললো খেজুরী-১নম্বর ব্লকের হেঁরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জরারনগর গ্রামের দুই পরিবারের অসুস্থ ব্যক্তির মানুষজন।

গত কয়েকদিন আগে জরারনগর গ্রামের শেখ সম্রাট ও রোজা বিবির দু বছরের সন্তান রাজিবুল এর শ্বাসনালিতে নারকেল আটকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। দিন আনা দিন খাওয়া এই পরিবারের সামর্থ ছিলো না কোন নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য বিমান নায়ক তৎক্ষণাৎ বি ডি ও র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বি ডি ও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অসুস্থ বাচ্চাটির বাড়ি পৌঁছে যান এবং স্বাস্থ্য কার্ড টিও করে দেন সঙ্গে সঙ্গে। ওইদিন জেলা পরিষদ সদস্য সহ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা নমিতা নায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য করমাধ্যক্ষ জালাউদ্দিন খাঁন, সমাজসেবী রাজকুমার সামন্ত প্রমুখের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড টি পেয়ে ওই বাচ্চাটিকে কলকাতার পি জি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রায় ষাট হাজার টাকায় সুস্থ্য হয়ে রাজিবুল বাড়ি ফেরে।

বি ডি ও তীর্থনকর ঘোষ ওই পরিবারের কাছে যখন নিজে উপস্থিত হয়ে সব কিছু তদারকি করছিলেন তখনই আর একটি বিপদের কথা গ্রাম বাসী তার কাছে বলেন। ওই সময়েই ওই জরার নগর গ্রামের সেক জামসেদ আলীর বছর ২৬ এর পুত্র সেক হাসিবুলের পায়ের উপর দিয়ে ট্র্যাক চলে যাওয়ায় পায়ের সমগ্র মাংস পেশি বেরিয়ে হাড়গোড় ভেঙে যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ছেলেটির আবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডও ছিল না। বি ডি ও তৎক্ষণাৎ ডি এম অফিসে যোগাযোগ করেন। বিডিও তীর্থঙ্কর ঘোষের তৎপরতায় স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুযোগ ঘটে ও সমাজসেবী ডঃ পার্থ প্রতিম দাসের পরামর্শে কলকাতার ফ্লেমিনগো হসপিটালে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ পেয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই দুই অভাবনীয় ঘটনায় এলাকার মানুষ যান ইনতাজ আলী, সেক মুস্তাফা, সেক জলিল, সেক মনুরুদ্দিন, সেক হোসেন দের মধ্যে খুশির হাওয়া। দুই পরিবার ও মুখ্যমন্ত্রীর এই অকল্পনীয় প্রকল্পের ভূয়সী প্রসংসায় পঞ্চমুখ। স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

Facebook Comments