পৃথিবীতে যতদিন থাকবো, নেতাই গ্রামের সেবক হিসেবেই থাকবো: শুভেন্দু অধিকারী

পৃথিবীতে যতদিন থাকবো, নেতাই গ্রামের সেবক হিসেবেই থাকবো: শুভেন্দু অধিকারী 

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: সকলে ভেবেছিলেন হয়তো অন্য কিছু বলবেন। কারণ, নেতাই বলে কথা। যা এক সময় খবরের শিরোনামে উঠেছিল, পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ের নেতাই গ্রামের কথা কারও অজানা নয়। আর এতদিন পর সেই গ্রামে যখন যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, তখন নিশ্চয় তাঁর কিছু পরিকল্পনার কথা শোনাবেন। এখন যে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে নানা চর্চা। তিনি দলে থাকছেন কিনা, নাকি অন্য দলে যাচ্ছে, গেলে কোন দলে। নাকি নিজেই দল গঠন করবেন। এমন নানা কথা এখন রাজনীতির অলিন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে, দিশেহারা অনুগামীরাও।

 

কিন্তু এদিন সে সব কোনও কথাতেই গেলেন না শুভেন্দু বাবু। উল্টে বললেন, “আমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা, ছিল, আছে থাকবে। রবিবার লালগড়ের নেতাই গ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথাই বললেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি এদিন মন্ত্রী বা তৃণমূল নেতা হিসেবে নয়,নেতাই গ্রামে হাজির হয়েছিলেন “নেতাই গ্রামের সেবক শুভেন্দু অধিকারী” হিসেবে। বক্তব্য শেষে তিনিও সেই কথা নিজের মুখে বললেন। মাত্র ৮ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা করা হয়েছে। নিয়ম মেনে তিনি অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, এখন বক্তব্য রাখার মতো পরিস্থিতি নেই। এখনও শারীরিক ভাবে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। মাথা নত করে নেতাইবাসীকে প্রণামও করেন তিনি। বলেন, “আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যখন ছিলাম তখন আপনারা আমার জন্য হোম যজ্ঞ করেছেন। এজন্য আপনাদের প্রণাম। চন্দ্র সূর্য যতদিন থাকবে আমি ততদিন থাকবো না, তবে যতদিন থাকবো আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

 

আপনাদের ব্যাপক ক্ষোভ ছিল, তা আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছি। আপনাদের চাঁদ ধরিয়ে দিতে পারবো না, তবে নূন্যতম সহযোগিতা করব, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হচ্ছে, স্বনির্ভর হয়ে উঠুন। বাড়ি প্রদান করা হচ্ছে। নেতাই এর শহিদদের পরিবারের পাশে ২০১১ থেকেই আছি, তাই এবারেও পুজোর উপহার দিতে এসেছি।

 

পঞ্চমী তে গোয়ালতোড়ে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর এ কয়েকটি পুজোতে আসবো। মায়ের কাছে প্রার্থনা জানাবো। আপনারাও দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করে মায়ের পুজো দেবেন। প্রার্থনা করবেন যাতে পৃথিবী করোনা মুক্ত হয়।”

 

 

নেতাইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর যাওয়ার কথা প্রচার হতেই শুরু হয় গুঞ্জন। এদিন অবশ্য তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের ওই মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে ভিড় করেছিলেন দাদার অনুগামীরা। যদিও এদিনও তাঁর মুখ থেকে তেমন কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য মেলেনি। তারই সঙ্গে অবশ্য তিনি এটা জানাতেও ভোলেননি যে, “চন্দ্র, সূর্য্য, পৃথিবীতে যতদিন উঠবে যতদিন শুভেন্দু অধিকারী হাঁটতে, চলতে পারবে নেতাই এর গ্রামবাসীর সাথে ছিলাম, আছি, ভবিষতেও থাকবো। আমাকে আমার লক্ষ্য, আমার কর্ম পদ্ধতি, আমার দায়বদ্ধতা থেকে কেউ সরিয়ে দিতে পারে নি, ভবিষ্যতেও পারবে না। আমার চলি সমুখ পানে, কে আমাদের বাঁধবে, রইল যারা পিছুর টানে কাঁদবে তারা কাঁদবে।””

Facebook Comments