গোমাংস বিক্রির সন্দেহে আসামের মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

গোমাংস বিক্রির সন্দেহে আসামের মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করলো হিন্দুত্ববাদীরা

নিউজ ডেস্ক বেঙ্গল রিপোর্ট: বিজেপি শাসিত আসামে, গতকাল গুয়াহাটি বিশ্বনাথ চারিয়ালি বাজারে এরকম একজন মুসলিম মানুষকে উগ্রবাদী আরএসএসএস এর গুন্ডারা গরুর মাংস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ এনে বেধড়ক মারপিঠ করলেন। উত্তরপ্রদেশের #আখলাকের পর এবার উত্তর পূর্বের রাজ্যে আসামের গুয়াহাটিতে এরকম অবস্থা।

৬৮ বছর বয়স্ক মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করলো উগ্রবাদী, চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী জংগীরা। তারা গোমাংস বিক্রির সন্দেহে তাকে তার প্রকাশ্যে ধর্ম নিয়ে গালিগালাজ করলো ও মারধর করে থেতলে দিল। সমবেত জনতা ঘটনাটি দেখে মজা নিল, কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউই তার উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। বর্তমানে তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায় সওকত আলী, পিতা আব্দুল ছালাম!বিগত 40/50 বছর ধরে বাজারে ব্যবসা করে জীবিকা নিৰ্বাহ করেন! এই সহজ সরল মানুষের কাছে কিছুদিন আগে একাংশ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা চাঁদা দেওয়ার জন্য ওনার কাছে আসে,‌ কিন্তু উনি‌ চাঁদা ঠিক মত না দেওয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংঘী কিছু যুবক এই লোকের উপর আক্ৰমণ করার বাহানা খুঁজে ফিরে। গতকাল বাজার থেকে এই লোক বাড়িতে ফেরার পথে কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী যুবকরা৷ ব্যাগের মধ্যে গোমাংস আছে বলে এই বৃদ্ধের উপর আক্ৰমন করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে উগ্রবাদীরা কর্দমাক্ত, হাটু মুড়ে বসে থাকা বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করছে আপনার কি গোমাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে? উগ্রবাদীরা তাকে জিজ্ঞাসা করে আপনি যে গোমাংস বিক্রি করছেন সেটা বাজারের মহলদার বা ম্যানেজার জানেন কি? জেলা পুলিশ জানায় এরপরে গেরুয়াবাদীরা বাজারের মহলদার কমল থাপার কাছে গিয়েও তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা দরকার আসামে গোমাংস বিক্রি বা খাওয়ার উপরে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। উপরন্তু আসামে ১০টির বেশি অন্যান্য জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর লোকজন গোমাংস ভক্ষণ করে, কিন্তু চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদীরা শুধুমাত্র মুসলিমদের উপরেই তাদের ঘৃণা প্রদর্শন করে থাকে। এভাবেই তিলে তিলে এসব উগ্রবাদীরা ভারতের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যকে নষ্ট করছে, ভারতের আত্মাকে অপমান করছে।

তারপর চরমপন্থী আরও হেনস্থা করতে তাকে ফের জিজ্ঞাসা করে আপনি কি বাংলাদেশি? নাকি আর NRC নাম আছে? এত লজ্জাজনক ঘটনা নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলের আগে আর কোনদিন দেখা যায়নি। গত পাঁচ বছরে দেশের সর্বত্র এইসব সন্ত্রাসীদের উৎপাত বেড়েই চলেছে অথচ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোন হেলদোল নেই এব্যাপারে। আসলে সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত থাকলে খোড়া প্রশাসন কিই বা করতে পারে??

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় দুটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অবশ্য পুলিশ এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

এসপি রাকেশ রৌশনের দাবি করেন, বিষয়টি সাম্প্রদায়িক নয়। দুই সম্প্রদায়ের মানুষকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ এ নিয়ে শান্তিবৈঠক ডেকেছেন জেলাশাসক।

Facebook Comments