বিস্মৃতির অন্তরালে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত কাজলাগড় রাজবাড়ি

বিস্মৃতির অন্তরালে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত কাজলাগড় রাজবাড়ি

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: মোমবাতি জ্বললো না, ফুল ছড়িয়ে দিলো না কেউ। বিশিষ্ট কবি, সঙ্গীতশিল্পী ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের স্মৃতি বিজড়িত কাজলাগড় রাজবাড়ি সোমবার একরকম নির্লিপ্ততার মধ্যে অতিবাহিত হল ১০৮ তম তিরোধান দিবস। যদিও বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীতকার, কবি ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের একদীর্ঘ স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ১০৮ তম তিরোধান দিবস সোমবার ১৭মে একরকম নির্লিপ্ততার সঙ্গে পালিত হয়েছে। ১৮৯০ সালে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কর্মসূত্রে বর্ধমান রাজ এস্টেটের সেটেলমেন্ট আধিকারিক হিসাবে ভগবানপুরের কাজলাগড় রাজবাড়িতে এসে প্রায় তিন বছর ধরে অবস্থান করেছিলেন। ইতিহাসের চুপকথা জানান দেয়, কাজলাগড়ে বর্ধমান রাজ এস্টেটের সেটেলমেন্ট আধিকারিক হিসেবে  থাকাকালীন সেই সময় কাজলাগড় দীঘির পাড়ে বকুলবাগানে বসে অনেক কবিতা, গান ও নাটক রচনা করেছিলেন দ্বিজেন্দ্রলাল। যেগুলি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমূল্য সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের স্মৃতি বিজড়িত ভগবানপুরের কাজলাগড়ের রাজবাড়ি আজ খন্ডহরে পরিণত হয়ে ধ্বংসের প্রহর গুনছে।

উদাসীনতা অবহেলা আর
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া কাজলাগড় রাজবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের।কিন্তু ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে সরকারের কোন হেলদোল নেই। ইতিহাস বিস্মৃত জাতি কখনও এগিয়ে যেতে পারে না। হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ, সরকার ও জনপ্রতিনিধি সকলেই এসব বিষয়ে নির্বিকার। ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা নিয়ে আগ্রহ কোথায়? বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এমনকী জেলার প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের স্মৃতি বিজড়িত কাজলাগড় রাজবাড়ি সংরক্ষণের জন্য বারবার দাবি জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেছেন কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

Facebook Comments