বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিকদের বকেয়া কোটি টাকারও বেশি, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে শুরুতেই জট

বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিকদের বকেয়া কোটি টাকারও বেশি, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে শুরুতেই জট

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: রামনগর-২ ব্লকের দাদনপাত্রবাড়ে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির মোট ৩০০জন শ্রমিকের (১২১জন জীবিত বাকিরা মৃত) ২০০৭-০৮ সাল পর্যন্ত বেতন, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নিয়ে মোট বকেয়া পাওনা ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পাওয়া নিয়ে আবার জট দেখা দিয়েছে। ফলে দাদনপাত্রবাড়ে রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরুর মুখেই হোঁচট খেতে বসেছে। গতবছর ৩০ সেপ্টেম্বর দাদনপাত্রবাড়ে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির পতিত জায়গায় প্রস্তাবিত ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে এসে রাজ্যের তৎকালীন বিদ‍্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ডব্লুবিএসএডিসিএলের প্রোজেক্ট ডিরেক্টরকে পাশে নিয়ে উদ্বোধন মঞ্চে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন যে, “কাউকে কাঁদিয়ে কোনো প্রকল্প কখনোই সম্ভব নয়। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা সহ দাবিগুলি অবশ‍্যই মেটানো হবে”। এরপর মন্ত্রী প্রোজেক্ট ডিরেক্টরকে শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার ব‍্যবস্থা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে নামার নির্দেশ দেন বলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির কর্মী ও ইউনিয়ন নেতা মুক্তেশ্বর পয়ড়্যা ও মদন দাস জানিয়েছেন।

ডব্লুবিএসইডিসিএলের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর তাতে রাজীও হন বলে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির কর্মীদের দাবী। মুক্তেশ্বরবাবু আরও জানান, গত বছরের ৩ অক্টোবর কাঁথি মহকুমা শাসকের অফিসে অ‍্যাসিস্ট‍্যান্ট লেবার কমিশনার, রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি, কালিন্দী অঞ্চলের প্রধান স্বপন দাস ও বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে তৎকালীন মহকুমা শাসক বিষয়টি নিয়ে জেলা শাসককে রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর গত ১২ নভেম্বর মহকুমা শাসকের অফিসে অ‍্যাসিস্ট‍্যান্ট লেবার কমিশনার, কোম্পানির ডিরেক্টর রথীন্দ্র দত্ত এবং শ্রমিক কর্মচারিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বকেয়া পাওনা গন্ডার হিসেব নিয়ে বৈঠক করেন তৎকালীন কাঁথির মহকুমা শাসক শুভময় ভট্টাচার্য্য।

এরপর গত ২৩ ডিসেম্বর কাঁথির বর্তমান মহকুমা শাসক হিমাদ্রি মোহন ইরানি, বিধায়ক অখিল গিরি, কালিন্দী অঞ্চলের প্রধান স্বপন দাস এবং বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিকদের কয়েকজন প্রতিনিধিদের নিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা সহ অন‍্যান‍্য দাবী নিয়ে একটি বৈঠক করেন। এরপর চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা শাসকের অফিসে জেলা শাসক, বিধায়ক অখিল গিরি, অঞ্চল প্রধান স্বপন দাস সহ বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিক কর্মচারিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় জেলাশাসক জানান যে, উনি সমস্ত রিপোর্ট নবান্নে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এরপর চলতি বছরের গত ১১ ফেব্রুয়ারি কালিন্দী পঞ্চায়েত অফিসে শ্রমিক প্রতিনিধি এবং অঞ্চল প্রশাসন ও বিধায়ক অখিল গিরিকে নিয়ে একটি  বৈঠক হয়। বৈঠকে বিধায়ক অখিল গিরি শ্রমিক কর্মচারিদের পাওনা দাবী নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনা টাকা যাতে পান তার জন্য তিনি উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ও বর্তমানে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির জায়গায় প্রস্তাবিত সৌর প্রকল্পের কাজ করতে দিতে হবে। এতে শ্রমিক কর্মচারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন ও যতদিন না শ্রমিকদের পাওনা না মেটানো হচ্ছে ততদিন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজকর্ম শুরু করা যাবে না বলে দাবি জানান।

ইতিমধ্যে গত মার্চ মাসে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ডব্লু বিইআরসির (ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে এলাকার কারুর কোন আপত্তি অভিযোগ রয়েছে কিনা তা নিয়ে  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির কর্মীদের পক্ষ থেকে তাদের বকেয়া পাওনা টাকা না মিটিয়ে দেওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ জমা দিয়ে এসেছেন বলে কর্মীদের পক্ষ থেকে মুক্তেশ্বর পয়ড়্যা ও মদন দাস জানিয়েছেন।

এদিকে বিধান সভা ভোটের পর রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি রাজ্য মন্ত্রী সভায় মৎস্যমন্ত্রী হলে বেঙ্গল সল্ট কোম্পানির শ্রমিকরা মৎস্য মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি   মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি বেঙ্গল সল্ট  কোম্পানির কর্মীদের বকেয়া টাকা পাওনা নিয়ে কয়েক মাস অপেক্ষা  করার কথা বলা ছাড়াও কোম্পানির জমিতে বাস করা কর্মহীন ৩৬ টি শ্রমিক  পরিবারের পুনর্বাসন পাওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বলেও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

Facebook Comments