পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে দেড় হাজার ইউনিটের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রক্তদান মেলা

পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে দেড় হাজার ইউনিটের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রক্তদান মেলা

সেখ রিয়াজ উদ্দিন, বেঙ্গল রিপোর্ট, বীরভূম: “রক্তদান মহৎ দান- এই রক্তে বাঁচবে অন্যের প্রাণ”- হ্যাঁ, সেই বার্তা কে সামনে রেখে আসানসোলের মহানাগরিক তথা পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির মস্তিষ্কপ্রসূত এবং আসানসোল রাইজিং এর উদ্যোগে এলাকায় বানপুর বি এন আর মোড়ে তথা কোর্ট মোড়ে সাতটা শিবির করে প্রায় এক হাজার পাঁচ শত ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয় আজ।

করোনা আবহে ব্লাড ব্যাংকের রক্ত সংকট দূরীকরণে এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার এ এক প্রয়াস। শুধু পশ্চিম বর্ধমান জেলার ব্লাড ব্যাঙ্ক নয় এখানে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আসানসোল, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এমনকি কলকাতা এস এস কে এম থেকেও মেডিকেল টিম এসে রক্ত সংগ্রহ করেন।

রক্ত দান মেলা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এছাড়া ও রক্ত দান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রান্তিক মাহাতো, রক্ত আন্দোলনের কর্মী প্রবীর ধর, তন্দ্রিমা ধর সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উৎসাহী রক্ত দাতাগণ। আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি তিনি নিজেও রক্তদান করে রক্ত দাতাদের উৎসাহিত করেন।

সংবাদ প্রতিনিধিদের কাছে এক সাক্ষাৎকারে মেয়র জীতেন্দ্র বাবু জানান আমরা আসানসোল বাসি শুধু আসানসোলের এলাকার মানুষের কথাই চিন্তা করি না তাই এখান থেকে রক্ত সংগ্রহ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, কলকাতা সহ বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে, এটি একটি নজির সৃষ্টি কারি ঘটনা। শুধু নিজের এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ায় মূল লক্ষ্য। জিতেন্দ্র বাবু জানান তিনি নিজেই করোনাই আক্রান্ত ছিলেন সাথে তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছিলেন, করোনা রোগীদের প্লাজমার ক্ষেত্রে ও এটা একটা কার্যকরী পদক্ষেপ।

আজকের এই রক্তদান মেলায় সুদুর বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া ব্লকের গোপালনগর গ্রাম থেকে আগত তিন যুবককে দেখা যায় শিবিরে। চন্দন সেনগুপ্ত, প্রশান্ত বাউরি, চন্দন ঘোষ তিন জনেই রক্ত দান করেন এবং রক্ত দানের উৎসাহ ও আনন্দ তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে ওঠে তিন বন্ধুর কাছেই।এরকম বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রক্ত দাতাদের চোখেমুখে হাসির রেখা ফুটে উঠতে দেখা যায়।

Facebook Comments