কাঁথি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা তলানিতে, প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা

কাঁথি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা তলানিতে, প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামোর সম্প্রতি যথেষ্ট উন্নতি হলেও প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সমস্ত বিভাগ মিলিয়ে ৩৫ জন সাধারণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে ৩৫ জন বর্তমানে নিযুক্ত আল্ট্রাসোনোগ্রাফী, এক্স-রে, রোগনির্ণয় কেন্দ্র, পরীক্ষাগার সহ অন্যান্য নিরীক্ষণ কেন্দ্রে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে অভিযোগ উঠছে।

কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে জরুরী বিভাগে কোয়ালিটি পলিসি নিয়ে দেওয়াল লিখনে ‘কোয়ালিটি’র বাংলা লেখা রয়েছে ‘মনোনয়ন নীতি’। কোয়ালিটি পলিসি র বাংলা লেখা ‘মনোনয়ন নীতি’ পরিপূর্ণ অশুদ্ধ। কিন্তু ভুল শোধরানোর প্রশ্নে কোন হেলদোল নেই। ৩৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪ জন বিশেষজ্ঞ সার্জেন ও ৪ জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এছাড়া স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, আল্ট্রাসোনোগ্রাফী বিশেষজ্ঞ, অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। প্রত্যেক চিকিৎসকের সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা করে ডিউটি করার কথা। জেনারেল সার্জেন, অর্থোপেডিক্স সার্জেন, জেনারেল মেডিসিন, চেষ্ট মেডিসিন, সুগার মেডিসিন, পেড্রিয়াটিক মেডিসিন, গায়নো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিদিন হাসপাতালে এসে নির্দিষ্ট অসুখের রোগীদের বেড-ইন- চার্জ হিসাবে প্রতিদিন চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার কথা।

কিন্তু চিকিৎসকরা নিজেদের প্রাইভেট চেম্বারের সুবিধার জন্য সপ্তাহে ২ দিন করে হাসপাতালে রোগীদের দেখার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে হাসপাতালে ভর্তি নির্দিষ্ট অসুখের রোগীদের ২ দিন অন্তর ভিন্ন ভিন্ন ডাক্তারের চিকিৎসায় থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া জেনারেল সার্জেন কখনও অর্থোপেডিক্স রোগী দেখছেন বা অর্থোপেডিক্স সার্জেন জেনারেল সার্জারীর রোগী দেখছেন। চেষ্ট মেডিসিনের ডাক্তার সুগার রোগী দেখছেন বা সুগার বিশেষজ্ঞ চেষ্টের রোগী দেখছেন। সব বিভাগের রোগী দের একসঙ্গে দেখতে গিয়ে চিকিৎসকদের রোগীদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া বা নির্দিষ্ট রোগীদের বিশেষজ্ঞ হিসাবে চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করন হচ্ছে না।

গড়পড়তা চিকিৎসা পরিষেবায় রোগীদের প্রানান্ত অবস্থা। তাছাড়া ২ দিন অন্তর ডাক্তার পরিবর্তন হওয়ায় রোগীর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে না। সবাই যখন সব রোগীদের দেখছেন তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিষেবা অর্থহীন হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হাসপাতালে উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট অসুখের রোগীর জন্য সুনির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিষেবা সুনিশ্চিত করন জরুরী কলে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হাসপাতালে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা ইত্যাদি দাবীর সুরাহার লক্ষে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকক ও কাঁথি মহকুমা রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নন্দদুলাল মাইতিকে জরুরী বার্তা পাঠিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্ট্রেচার ও হুইলচেয়ার সরবরাহেরও দাবী জানিয়েছেন মামুদ হোসেন।

Facebook Comments