রথীন্দ্র কৃষিবিজ্ঞান ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার ধান সাশ্রয় কৃষক উৎপল রায়ের

রথীন্দ্র কৃষিবিজ্ঞান ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার ধান সাশ্রয় কৃষক উৎপল রায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গল রিপোর্ট, বীরভূম: বীরভূম জেলার রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের বিজুরি গ্রামের মধ্যবয়সী বাসিন্দা উৎপল রায়। চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির মূল জীবিকা পারিবারিক কৃষি। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পারিবারিক কৃষি কার্যে জড়িয়ে পড়ার জন্য আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি এবং বাবার সাথে কৃষিকার্যে যুক্ত হয়ে পড়েন।

উৎপাল বাবুর মোট বিঘা জমি আছে এবং বর্তমান খারিফ মরশুমে তিনি ৮.৩৩ একর জমির মধ্যে ৬.৬৬ একর জমিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু ধান রোপনের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি লক্ষ্য করেন প্রায় ৩.৩৩ একর জমির ধানের পাতাগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। মানসিকভাবে খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েন উৎপাল বাবু। এরই মধ্যে গ্রামের এক কৃষকভাইয়ের মাধ্যমে উৎপাল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জীবিকার উন্নয়নে বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ ও হেল্পলাইন তথ্য পরিষেবার কথা জানতে পারেন। মূলতঃ গ্রামের কৃষকভাইয়ের উদ্যোগে তাঁর পরিচয় ঘটে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কর্মী মৃনাল বাবুর সাথে। এরপর মৃনাল বাবুর সহায়তায় রথীন্দ্র কৃষি কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান। উৎপল তার সমস্যার কথা হোয়াটসঅ্যাপ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন এবং কৃষি বিশেষজ্ঞ জানান জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সমাধানের জন্য কীটনাশকের নাম এবং ব্যবহার পদ্ধতি বলে দেন। কৃষি বিশেষজ্ঞ- এর কথামতো উৎপল জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই তিনি লক্ষ্য করেন যে তার সমস্ত ধানের গাছ গুলো সতেজ হয়ে গেছে। উৎপল বাবু বলেন, ৬.৬৬ একর জমিতে প্রায় ১৪০-কুইন্টাল ধান হয় প্রতিবছর কিন্তু সেই বছর মাজরা পোকা দমনের জন্য কীটনাশক যদি না ব্যবহার করত তাহলে তার ৭০- কুইন্টাল ধান নষ্ট হয়ে যেতো।

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে উৎপালবাবু বলেন সময় মতো সঠিক তথ্য দিয়ে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন তাঁর ধানক্ষেত রক্ষা করেন যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৯৬ হাজার টাকা।

Facebook Comments