মানুষের কাছে চলো মানুষের কথা শোনো, মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হও: সিপিএম ও গনফ্রন্টের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ কর্মসূচি

মানুষের কাছে চলো মানুষের কথা শোনো, মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হও: সিপিএম ও গনফ্রন্টের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ কর্মসূচি

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর:
“আমরা লাল ঝান্ডা পার্টির লোক, বেঁচে আছি। যারা ভেবেছিল লাল ঝান্ডা কে শেষ করে দেবে, তারা কিন্তু তা পারেনি। আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে আপনাদের কাছেই আছি। এখন আপনাদের সঠিক রাস্তা চিনে নেওয়ার সময় এসেছে, তাই আপনাকে সঠিক পথ চিনে নিতে হবে”প্রকৃত গরিব পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের বন্ধুকে চিনে নিতে হবে।” এভাবেই খেজুরির বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ প্রচার চালাচ্ছে সিপিএম।

সিপিএম ও গন ফ্রন্টের নেতৃত্বের দাবি, লাল ঝান্ডা ধরে এই খেজুরি তে তেভাগার আন্দোলন, মজুরির আন্দোলন, সংগঠিত হয়েছিল। তার ভিত্তিতে খেজুরি তে বামফ্রন্ট সরকারের পঞ্চায়েতী রাজ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে গরিব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। উন্নয়ন গড়ে উঠেছিল। তা আজকে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার মধ্য দিয়ে, মানুষের অতীত অভিজ্ঞতার ঘটনা বলি উঠে আসছে বারবার। আর সেই দিন গুলোকে ধ্বংস করতে খেজুরি তে যেভাবে ২০০৯ সালের পর থেকে গরিব ক্ষেতমজুর, মহিলা, কৃষক-শ্রমিক, সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছিল খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, লুট, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, বাড়ি ভাঙচুর করে দেওয়া, এবং বাড়ি ছাড়া করার মধ্য দিয়ে। যারা শত অত্যাচার সহ্য করে এলাকায় টিকে ছিল তাদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা সহ সব রকম অসামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন জেরবার করে দিয়েছে এই তৃণমূল ও তার আশ্রিত সমাজবিরোধীরা।
এদের থেকে রক্ষা পেতে খেজুরির মানুষ ভেবেছিল বোধহয় বিজেপিকে নিয়ে আসলে পর সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তৃণমূল থেকে আসা সেই একই প্রকৃতির মানুষ জন বিজেপি তে যোগ দিয়ে বিধানসভায় জয়লাভ করেছে। যে আশা – ভরসা নিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছিল তা প্রায় এক বছরের মধ্যে এখন মানুষের ভুল ভাঙতে শুরু করেছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুটি সরকার ই তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যেভাবে বিভাজনের রাজনীতি করে যাচ্ছে তা আজকে খেজুরির প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েগেছে।এখনো দু’দলের লড়াইয়ের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। বোম- আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে সম্ভার সাজিয়ে তুলেছে। এখনো লুট, ধর্ষণ, খুন যথারীতি চলছে। উন্নয়নের নামে চুরি জোচ্চুরি চলছে। রাস্তাঘাটের কোন উন্নতি হয়নি। পানীয় জল, বিদ্যুৎ সবক্ষেত্রেই মানুষকে চরম দূর্দশার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। তাই যারা একসময় গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলি কাটিয়ে, আলোর পথ দেখিয়েছিল, আজকে সেই লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সাথী হয়ে গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে, মানুষের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধার কথাশুনছেন। আগামী দিনে গ্রামবাংলায় পরিবর্তনের বার্তা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।

সারা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ব্যাপী গত ১৫ ই মে থেকে একমাস ব্যাপী জনসংযোগ ও গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। আওয়াজ উঠেছে- “মানুষের কাছে চলো, “মানুষের কথা শোনো, মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হও, মানুষকে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করো।” আজকে খেজুরি ২ এরিয়া কমিটির – জনকা গ্রাম পঞ্চায়েতের পনিখা, ফুলবাড়ি গ্রামে সিপিআইএমের নেতৃত্ব ও গণফ্রন্টের কর্মীগণ বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এই কর্মসূচিতে আছেন সারা ভারত খেত মজুর ইউনিয়নের সর্বভারতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস, জেলা কৃষক কাউন্সিল সদস্য ও এরিয়া কমিটির সম্পাদক নেতা রত্নেশ্বর দোলুই, শ্রমিক নেতা অতুল্য উকিল, প্রদীপ মণ্ডল, ছাত্রনেতা শেখ জাকির হোসেন মল্লিক, মহিলা নেত্রী পার্বতী করন, যুব নেতা নন্দ দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Facebook Comments