করোনা ভাইরাস, বিপদের সু-যোগ যেখানে: ইনযিমাম উল হক

করোনা ভাইরাস, বিপদের সু-যোগ যেখানে: ইনযিমাম উল হক

দুনিয়ার স্বাভাবিক ছন্দ ঘুরিয়ে দেওয়া অতিমারি করোনা ভাইরাস প্রাকৃতিক ভাবে এসেছে , নাকি জীবাণু অস্ত্র হিসাবে মানুষের দ্বারাই ল্যাবরেটরিতে উৎপন্ন? এর পিছনে পাশ্চাত্যের ব্যাবসারিক ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তার সবটাই কি অবাস্তব? এসব নিয়েই উল্লিখিত নিবন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন মুহাম্মদ ইনযিমাম উল হক।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ২০১৫ সালের টেড টকস এ বলেছিলেন যে, যখন আমি ছোট ছিলাম তখন যে বিপর্যয়ের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, তা হল পারমাণবিক যুদ্ধ। তবে আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়ের উৎসের চিত্রটি পাল্টেছে। আগামী কয়েক দশকে যদি কোনো মারণাস্ত্র এক কোটির বেশি মানুষকে নিকেশ করতে পারে, তাহলে তা খুব সম্ভবত একটি অতি সংক্রামক ভাইরাস‌। কোনও মিসাইল নয়, বরং মাইক্রোবসই এখন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। তারপর পাঁচটা বছর কেটে গেছে। বাতাসে ভাসছে এখন নতুন বিষ, যার পোশাকি নাম নভেল করোনা ভাইরাস ওরফে কোভিড-১৯।

নভেল বলার কারণ করোনা ভাইরাসের বিভিন্ন প্রজাতি ইতিপূর্বে মানুষের মধ্যে জ্বর অসুখ সৃষ্টি করলেও কোভিড-১৯ এতদিন মানবচক্ষুর অন্তরালেই ছিল।শিমলা থেকে সিঙ্গাপুর, মুম্বাই থেকে মস্কো সর্বত্র এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের রণনীতি নির্মিত হচ্ছে। অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় কি হতে পারে। খোঁজ চলছে কোভিড-১৯ প্রতিষেধকের। তবে সম্প্রতি চিনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি সংক্রান্ত এক গোপন কেবল মার্কিন বিদেশ দপ্তরের সৌজন্যে ফাঁস হওয়ার ফলে সমান্তরালভাবে আরো একটি প্রশ্ন গবেষকদের ভাবাচ্ছে। তা হল করোনা ভাইরাসের প্রকৃত উৎস কি ? কিভাবে ছড়ালো এটি? চীনের উহান প্রদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলে আসছেন, করোনা ভাইরাস প্রাকৃতিভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। খুব সম্ভবত বাদুড়, বনরুই বা ওই জাতীয় প্রাণী থেকেই এই ভাইরাসের উৎপত্তি।

সেইমতো বিশ্বজুড়ে প্রচারণাও চলছিল। তাল কাটল দ্য ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনে। ২৪ জানুয়ারি প্রখ্যাত এই মার্কিন দৈনিকটি ভূতপূর্ব ইসরাইলি মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স আধিকারিক ড্যানি সোহামকে উদ্ধৃত করে লেখে, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে এই করোনা ভাইরাস সম্ভবত ছড়িয়ে পড়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরে ৩১ জানুয়ারি, আইটি দিল্লি ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন বিজ্ঞানীর মিলিত এক গবেষণাপত্র নিউ ইয়র্কের প্রখ্যাত বায়োলজিক্যাল জার্নাল BioRxiv-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দেখান যে, কোভিড-১৯ এর স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনের ৪ টি ইনসার্টেশন করোনা ভাইরাসের অন্য কোন প্রজাতির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না, বরং এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভির সঙ্গে তার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে , করোনা ভাইরাস কি তাহলে ল্যাবরেটরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ? কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকুয়েন্সে এইচআইভির উপাংশের উপস্থিতির জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি ভাইরোলজিস্ট লুক অ্যান্তনি মন্টাগনিয়ার ও কোভিড-১৯ কে মনুষ্যসৃষ্ট বলেছেন। এখন প্রশ্ন হলো কোভিড-১৯ কে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করার প্রয়োজন পড়লো কেন? আর কারাই বা তৈরি করল ? বিশ্ব রাজনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে যথারীতি দোষারো, পাল্টা দোষারোপের প্রক্রিয়া বিদ্যমান। মার্কিন সেনেটর টম কটন কিন্তু রাখঢাক না করেই করোনা ভাইরাসের জন্য সরাসরি চীনকেই দায়ী করেছেন। খোদ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯ কে চীনা ভাইরাস বলা পছন্দ করছেন।

উল্টোদিকে চীনও চুপ করে বসে নেই দক্ষিণ আফ্রিকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লিন সং টিয়ানো এই মর্মে টুইট করেছেন যে, চীনে এই মহামারী প্রথম দেখা গিয়েছে মানে এই নয় যে, চীন থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি। বিজনেস ইনসাইডার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , চীন সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, গত অক্টোবরে চীনের উহানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মিলিটারি গেমসে অংশগ্রহণকারী মার্কিন সেনারা সম্ভবত এই মহামারী উহানে ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রাজা জালালি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য সাধারণের লক্ষ্যে চীন ও ইরানের বিরুদ্ধে এই বায়োলজিক্যাল অ্যাটাক চালানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমেরিকা ইসরাইলের বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারকে নিশানা করেছেন।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমেদিনেজাদ একধাপ এগিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি দিয়ে করোনা ভাইরাস কে ল্যাবরেটরীতে নির্মিত জৈব অস্ত্র দাবি করে এর নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন| তুরস্কের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আরবাকানের পুত্র ফাতিহ আরবাকানও করোনা ভাইরাসে পিছনে জায়নবাদীদের কারসাজিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন |করোনা ভাইরাস নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোর থাকলেও মাইক্রোলজিস্টদের একটি বড় অংশের মতে, নভেল করোনা ভাইরাস সৃষ্টির সঙ্গে ল্যাবরেটরীর যোগ কোনভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জৈব মারণাস্ত্র বিরোধী আইনের খসড়ার রূপকার আন্তর্জাতিক আইন গবেষক ফ্রান্সিস বয়েলের অবশ্য দাবি, নভেল করোনা ভাইরাস জৈব মারণাস্ত্র’।

এর আগেও করোনা গ্রুপের সার্স ভাইরাসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বায়ো ওয়েপন হিসেবে ব্যবহার করেছিল। এখন প্রশ্ন হল, করোনা ভাইরাসকে জৈব অস্ত্র বলার পিছনে যুক্তি গুলি কি কি ? ভিন্নধারার গবেষক ও বিশ্লেষকরা যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন , তা একবার ক্রমান্বয়ে সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক।

এক, নিউজ ম্যাক্সের ফক্স নিউজের হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্ট এমেরাল্ড রবিনসন ট্যুইট করে জানিয়েছেন, আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যের তিনশোর বেশি কোভিড-১৯ ল্যাবের টেস্টিং রেট ১০০ শতাংশ অর্থাৎ সুস্থ, অসুস্থ যেই টেস্ট করুক রিপোর্ট কিন্তু পজেটিভ দেখাবে। তদন্ত করে দেখা গেল, বাস্তবে কোভিড পজিটিভের হার দশভাগের একভাগ। নিকটবর্তী টেক্সাস রাজ্যেরও একই হাল। তাই প্রশ্ন উঠেছে, কোভিড-১৯ নিয়ে আমেরিকার টেস্টিং ল্যাবগুলি সংক্রমণের হার এত বেশি করে দেখাচ্ছে কেন?

দুই, বিশ্ব বিখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, গত 28 জানুয়ারি আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড: চার্লস লেইবারকে চীনের উহানে একটি ল্যাবের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি উহানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার ডলার নিয়েছেন এবং ওখানে একটি ল্যাবরেটরির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু যখন তাকে এ বিষয়ে আমেরিকা সরকারের এজেন্সিরা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তখন তিনি বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করেন।

তিন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জিস এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজ, চীনের ওই বিতর্কিত ওয়ান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি করোনাভাইরাস এর উপর গবেষণা করার জন্য গতবছর মোটা অংকের অর্থসাহায্য করেছিল বলে নিউজ উইক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমেরিকা-চীনের রাজনৈতিক চাপান-উতোর নেহাতই লোক দেখানো? এর পিছনে কি কোনও বৃহত্তর চক্রান্ত কাজ করছে?

চার, ইসরাইলি সরকার ইসরাইলের বৃহত্তম শেবা হাসপাতাল কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য কয়েক লক্ষ ভেন্টিলেটর, এন-৯৫ মাস্ক কেনার দায়িত্ব সে দেশের স্বাস্থ্য দপ্তর কে না দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কে দিয়েছে। মোসাদ যথারীতি তা দেশে জোগানও দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, স্বাস্থ্য কিটের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ শত্রু দেশ চীন থেকে যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় বিক্রয়ের চ্যানেল মারফত এসেছে। ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।
করোনা আবহে ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা এবং তাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে কিছু বিপরীত মতও উঠে আসছে। খতিয়ে দেখা যাক সেইসব মতামতগুলিও।

নিবন্ধের শুরুটা মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের এক ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়ে করেছিলেন। নিবন্ধের ইতি টানতেও তাঁরই শরণাপন্ন হওয়া যাক। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে চীনে প্রথম কোভিড-১৯ কেস পাওয়া যায়। এর ঠিক এক মাস পূর্বে অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে নিউ ইয়র্কে জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি, বিশ্ব ইকোনমিক ফোরাম ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় একটি বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে রাষ্ট্রসংঘ, বিশ্বব্যাংক সহ বিশ্বের নীতি নির্ধারণকারী সংস্থাগুলির বাছাই করা ১৫ জন শীর্ষকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আলোচনা হয় যে, খুব শীঘ্রই করোনা ভাইরাস টাইপের কোন মহামারী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, করোনাভাইরাস আবির্ভাবের ঠিক এক মাস পূর্বে তারা কোন যাদুবলে এমন নিখুঁত পূর্বাভাস দিলেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের শেষ এখানেই নয়। গত ১৮ ই মার্চ বিল গেটস Reddit-এ একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধে যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে তাদের ডিজিটাল শংসাপত্র দিতে হবে। তিন বছর ফ্ল্যাশব্যাকে গেলে দেখা যাবে যে, ২০১৬ সালের ২০ মেয়ে নিউইয়র্ক রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরে আইডি-২০২০ নামে একটি নবগঠিত এনজিওর উদ্যোগে একটি বিশ্ব পর্যায়ের সম্মেলন হয়। তাতে বলা হয় যে বিশ্বজুড়ে ১৮০ কোটি মানুষের নাকি কোনো আইনি পরিচয়পত্র নেই। তাই এই সকল মানুষের কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য সহ বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দিতে হলে একটাই উপায়- তা হল সকলের জন্য ডিজিটাল আইডির ব্যবস্থাপনা।

বলা বাহুল্য, ওই আইডিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য সঞ্চিত থাকবে। এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল যে, এই আইডি-২০২০ কর্মসূচির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এর মাইক্রোসফট, বিল গেটসেরই ফান্ডেড ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা, জায়নবাদী রকফেলার পরিবারের বংশবদ রকফেলার ফাউন্ডেশন। ২০১৮ সালে একটি সোশ্যাল ওয়েবসাইটে আইডি-২০২০ জানাই, ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে ডিজিটাল আইডিতে কানেক্ট করা হবে সবচেয়ে সঠিক উপায়। সদ্যোজাত শিশুদের টীকাকরণের সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে ডিজিটাল আইডি দিতে হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তারা বায়োমেট্রিক লিংক আইডি প্রদানের কাজ শুরু করেছেন। যদিও নিন্দুকদের মতে, আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বায়োমেট্রিক রিং আইডি এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায় মাত্র। পরবর্তী পর্যায়ে বিল গেটস ডিজিটাল আইডির কাজে কোয়ান্টাম ডট ট্যাটু বা নুনের দানার সাইজের মাইক্রোচিপ ব্যবহার করতে চলেছেন।

কিন্তু কী এই কোয়ান্টাম ডট ট্যাটু? ইতিমধ্যেই ম্যাসচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির একদল গবেষক ‘সায়েন্স টনাস্লেশনাল মেডিসিন’ শীর্ষক জার্নালে দেখিয়েছেন যে, কীভাবে ভ্যাকসিন গ্রাহক মানুষদেরকে কোয়ন্টাম ডট ট্যাটুর সাহায্যে ট্র্যাক করা হবে। সায়েন্স অ্যালার্ট ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে যে, ভ্যাক্সিন দেওয়ার সময় অর্ধপরিবাহী দিয়ে তৈরি একধরনের অদৃশ্য কালি মানবত্বকে ‘এমবেড’ করে দেবে ,যা খালি চোখে দেখা যাবেনা।কিন্তু ফাইভ জির জমানায় মোবাইলের বিশেষ সেন্সরে তা ধরা পড়বে। এমনকি ওই কোয়ান্টাম ডট ট্যাটু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সঞ্চয় করে রাখতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এমআইটির ওই গবেষণার অর্থ জুগিয়েছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেট্স ফাউন্ডেশন।ইতিমধ্যেই ইসরাইল সরকার প্যাগাসাস জাতীয় ম্যালওয়্যার(ইন্টারনেটে নজরদারি চালানোর হাতিয়ার) দিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে খবর।

ভ্যাক্সিনেশন কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য কতখানি কার্যকারী, এর সাইড এফেক্টস কতখানি,সে আলোচনা সরিয়ে রাখলেও ভ্যাক্সিনেশনস কর্মসুচীর আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য বহুজাতিক সংস্থাগুলির হাতে চলে যাওয়া নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ওব্যক্তি গোপনীয়তার জন্য আদৌ নিরাপদ কী সে প্রশ্ন উঠছে। মানুষ কি তাহলে ব্যক্তিসত্ত্বা বিসর্জন দিয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির মুনাফা লাভের উপকরনে পরিণত হবে? বিশ্বজুড়ে কী এক পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম হতে চলেছে যেখানে মানুষের শরীরের উপরেও রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার কায়েম হতে চলেছে। যাকে মিশেল ফুকো ‘বায়োপাওয়ার’ বলে অভিহিত করেছিলেন; যে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারে মানুষ শুধুমাত্র একটি সংখ্যা?
এই নিবন্ধে আমরা কয়েকটি ঘটনাক্রমের মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধানের চেষ্টা করলাম। তবে করোনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতি আসলে কোন পথ নেবে তা বোঝা যাবে আরও কিছু দিন পর।

পুনশ্চঃ টাইমস অফ ইসরাইলে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইসরাইল সরকারের অর্থে পুষ্ট মিগাল গ্যালিলি রিসার্চ ইনস্টিটিউট কোভিড-১৯’ এর ভ্যাক্সিন ইতিমধ্যে আবিষ্কার করে ফেলেছে(!)যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট করার জন্য রেডি হবে।

Facebook Comments