গণপিটুনিতে খুন ও পুলিশকর্মীর উপর অত্যাচারের সঠিক বিচার চেয়ে সংখ্যলঘু কমিশেনর হস্তক্ষেপ দাবিতে ডেপুটেশন যুব ফেডারেশনের

গণপিটুনিতে খুন ও পুলিশকর্মীর উপর অত্যাচারের সঠিক বিচার চেয়ে সংখ্যলঘু কমিশেনর হস্তক্ষেপ দাবিতে ডেপুটেশন যুব ফেডারেশনের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গল রিপোর্ট, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: সোনারপুরে পুলিশ কর্মী সুরাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের উপর পুলিশী অত্যাচার এবং বাসন্তীতে গণপিটুনিতে নিহত রফিকুল ইসলামের দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যলঘু কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মমতাজ সংঘমিত্রাকে ডেপুটেশন দিল সারা বাংলা যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল।

উল্লেখ্য, গত ৬ ই অগাস্ট, ২০২১, সোনারপুর থানার অন্তর্গত বেনিয়া-বৌ গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশকর্মী সুরাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা, অকথ্য অত্যাচার এবং গ্রেফতারীর ঘটনা ঘটে। এই বর্বরোচিত ঘটনার নেতৃত্বে ছিল সোনারপুর থানার এসআই সোমনাথ দাস, এএসআই প্রিয়া সেন এবং ২০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার। আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পান নি সুরাফের ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মা-ও। সুরাফকে বাঁচাতে ছুটে যান সুরাফের আড়াই মাসের গর্ভবতী স্ত্রী তানিয়া পারভীন, তাঁকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেন সোমনাথ দাস। সুরাফের স্ত্রী তানিয়া পারভীন জানিয়েছেন যে গর্ভবতী জানা সত্ত্বেও প্রিয়া সেন ও সিভিক ভলান্টিয়াররা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর পেট ব্যথা এবং রক্তস্রাব শুরু হয়ে যায়। এবং গর্ভপাত হয়ে যায়।

পুলিশের এই বর্বরোচিত আচরণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিচার এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, মাইনরিটি কমিশন, স্টেট পুলিশ ডিজি, বারুইপুর থানার এসপি, এসডিপিও, সোনারপুর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ, রাজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন সুরাফ হোসেনের পরিবার। এখনো পর্যন্ত কোনো সদর্থক সাড়া মেলেনি। তাঁদের এই ইনসাফের লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন গণসংগঠন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জীবনতলায় চুরির অভিযোগে মারধর এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে প্রাণ হারালেন রফিকুল মোল্লা(৩২) নামে এক মুসলিম যুবক। বাড়ি জীবনতলা থানার গাববুনি এলাকায়। এখানেও দোষীদের তালিকা গেরুয়া সন্ত্রীসের দল।
রফিকুলের পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় বাসন্তী থানার চড়বিদ্যা এলাকায় মারধর করা হয় তাকে। মারের চোটে তার হাত-পা ভেঙে যায়। ঘটনাস্থালেই লুটিয়ে পড়ে রফিকুল। এলাকারই লোকজন রফিকুলকে ভর্তি করে বাসন্তী গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়।

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দুটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে নিম্মলিখিত দাবি জানিয়েছেন।

১. অবিলম্বে সোনারপুরের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে।

২. সোমনাথ দাস, প্রিয়া সেন এবং অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. সুরাফ হোসেন এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের সামাজিক এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

৪. সুরাফ হোসেনকে কর্মক্ষেত্রে যথাযোগ্য সম্মান সহ প্রত্যাবর্তনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সুরাফ হোসেনের বাড়ি থেকে লুঠ হওয়া সোনার গয়না, মোবাইল ফেরত দিতে হবে।

৫. মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীকে রাজ্য পুলিশের নির্লজ্জ সাম্প্রদায়িক মনোভাবের দায় স্বীকার করতে হবে এবং এই ধরনের যে কোনো ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ এর নীতি গ্ৰহণ করতে হবে।

৬. বাসন্তীতে গণপিটুনিতে নিহত রফিকুল ইসলামের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ সহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৭. রাজ্যে কোথাও যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সংখ্যলঘু কমিশনকে সদর্থক ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংখ্যলঘু কমিশনের চেয়ারম্যান বিষয়দুটি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে চিঠি লিখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সহ সম্পাদক হাফেজ নাজমুল আরেফীন, শিক্ষক আলি আকবর প্রমুখরা।

Facebook Comments