ভিড়ের ও সংক্রমণের আশঙ্কায় এবার পুজোয় থিম ও মেলা বাদ বাঁকুড়ার দুই ক্লাবের

ভিড়ের ও সংক্রমণের আশঙ্কায় এবার পুজোয় থিম ও মেলা বাদ বাঁকুড়ার দুই ক্লাবের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গল রিপোর্ট, বাঁকুড়া: পুজো করার সরকারি অনুমতি ও অনুদান– দুই – ই মিললেও পুজো হবে নিয়ম রক্ষার। এমনই সিদ্ধান্ত বাঁকুড়ার ইন্দপুরের বাংলা আগামী দিন ক্লাব ও বাংলা নবারুণ সংঘের। এবার করোনা আবহে তাদের মধ্যে নেই থিমের লড়াই, নেই সেই আবেগ, উচ্ছ্বাস। বাংলা নবারুণ সংঘ ও বাংলা আগামী দিন দুই ক্লাবের পুজো এবার চৌদ্দ বছরে পড়ছে। শুরু থেকেই থিম পুজোর উপহার দিয়ে আসছিল এই দুই ক্লাব। জেলা সদর বাঁকুড়া শহরের পুজোর সঙ্গে টক্কর দিয়ে বিগত ক’বছরে নজর কেড়ে নিয়েছিল এই দুই ক্লাবের দুর্গা পূজা। বিগত বছরগুলিতে সরকারি সেরা পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সেরার পুরস্কার এসেছে দুই ক্লাবের ঝুলিতে। কিন্তু এবার থিম নেই। প্রতিমাও সাবেক রীতির। বসবে না দোকান পাট- মেলা। নবারুণ সংঘের সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিন্ময় পাত্র জানান, “সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিগত বছরগুলিতে প্রায় দশ থেকে বারো লক্ষ টাকার বাজেট থাকত। প্রচুর দর্শনার্থীদের ভিড় হত, এবছর সব কাটছাঁট করা হচ্ছে। করোনা আবহে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিয়ম রক্ষার পুজো হবে।”

নবারুণ সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ভিড় ঠেকাতে ব্যারিকেড , দূরত্ব বজায় রেখে প্রবেশ প্রস্থানের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। পুষ্পাঞ্জলি দূরত্ব বিধি মেনে দশ জন করে । থাকবে স্বেচ্ছাসেবক। সচেতনতা প্রচার করা হবে।

সম্প্রতি নবারুণ সংঘের এক সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তাতে ক্লাবের সদস্য সহ- এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে দিন- দিন এলাকায় সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। ভিড় থেকে সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্যোক্তারা ছোট করে পুজো করতে চাইছেন। বিগত বছরগুলিতে পুজো দেখতে দর্শনার্থীদের ঢল নামত, সেই ভিড়ের আশঙ্কা থেকেই সবকিছু বাতিলের সিদ্ধান্ত দুই ক্লাবের। ক্লাব সদস্য সহ এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে থিমের মন্ডপ, আলোকসজ্জা, আনন্দমেলা সব বাতিল করা হচ্ছে বলে জানান ক্লাব কর্তারা।

ইন্দপুর ব্লক সদরের মূল বাজার বাংলা। খাতড়া মহকুমা এলাকা সহ ব্লকের অন্যতম বড়ো পুজোর আয়োজন করত এই দুই ক্লাব। পুজো দেখতে এলাকার প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমেএখানে। বাংলা আগামী দিন ক্লাবের পুজো কমিটির সভাপতি বিবেকানন্দ লায়েক জানান, “বিগত বছরগুলিতে বারো লক্ষ টাকার ওপর বাজেট থাকত, থাকত থিমের চমক। ব্লক এলাকা সহ জেলা সদরের প্রচুর মানুষ ভিড় জমাত মন্ডপে। এই পরিস্থিতিতে সেই ভিড়ের আশঙ্কা থেকেই পুজো ছাড়া বাকি সব আয়োজন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিড় এড়াতে ক্লাব সদস্য সহ এলাকার মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে থিমের মন্ডপ, খাবারের দোকান, মনোহারীর স্টল, আনন্দমেলা সব বাতিল করা হয়েছে। এবছর সাবেকী প্রতিমায় পুজো হবে।”

বাংলা আগামী দিন ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক বুদ্ধদেব সাহানা (লাল্টু) জানান, “সরকারি নির্দেশিকা মেনে পুজো হবে। এবার খোলামেলা মন্ডপ, দর্শনার্থীদের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। মন্ডপ স্যানিটাইজ করা হবে। দূরত্ব বিধি দেখতে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন ।কোভিড সচেতনতা প্রচার করা হবে।”

করোনা আবহে দুই ক্লাবের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা। এলাকার বিশিষ্ট চিকিৎসক রামেশ্বর মুখার্জী জানান, “দুই ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। ক্লাব কর্তাদের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।”

Facebook Comments