স্কুল খোলার দ্বিতীয় দিনে চরম অশান্তি, দেরিতে স্কুলে ঢুকতে বাধা! প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ

স্কুল খোলার দ্বিতীয় দিনে চরম অশান্তি, দেরিতে স্কুলে ঢুকতে বাধা! প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: শিক্ষা দফতরের নাকি কড়া নির্দেশ, দশটার মধ্যেই ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে হবে। কিন্তু আজ বুধবার সারা রাজ্যে স্কুল খোলার দ্বিতীয় দিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরির আদর্শ বিদ্যাপীঠের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলো।
সকাল দশটার সময় খেজুরি আদর্শ বিদ্যাপীঠ স্কুলে এসে ছাত্র-ছাত্রীরা এসে দেখে স্কুলের গেটে চাবি তালা ।প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের মাথায় হাত। তারা ঢুকতে পারবে না যেহেতু সময়ে আসতে পারেননি।

এমত অবস্থায় স্কুল চত্বর এলাকায় বাড়তে থাকে জটলা, ক্ষোভ- বিক্ষোভ। খবর পেয়ে ঢুকতে না পারা ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরাও এসে হাজির। হাজার অনুরোধ করেও স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মতি আদায় করতে পারেনি।

ভারতের ছাত্র ফেডারেশন খেজুরি শাখার উদ্যোগ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে দ্বিতীয় দিনে পড়াশোনার কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ আবেদন করলে তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তাই ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক সহ সকলে রাস্তা অবরোধ করে।

পুলিশ খবর পেয়ে স্কুল গেটে আসে। পুলিশও স্কুল কর্তৃপক্ষকে গেট খুলে ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলে ঢোকার জন্য অনুরোধ জানায়। এদিকে জনসাধারণের সুবিধার কথা ভেবে পুলিশের অনুরোধে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কিন্তু গেটের তালা খুলছে না দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে এবং কড়া মনোভাবের ফলে তালা ভেঙে ফেলা হবে বলায় শেষে স্কুল কর্তৃপক্ষ গেটের তালা খুলতে বাধ্য হয়।

এই অবস্থা কেন হল। আজকের দিনে প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীকে যে যার টিউশন শেষ করে সকাল সকাল নাকে মুখে দুটো খেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ঠিক দশটার আগে পৌঁছতে না পারায়, সরকারি আদেশ নামা আর স্কুল কর্তৃপক্ষের অনমনীয় মনোভাব আজকে খেজুরি বাসীর কাছে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। তাছাড়া প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দূরত্ব বজায় রেখে বসানো, স্যানিটাইজার, মাস্ক, হাত ধোয়ার জন্য অপরিযাপ্ত জল, বেসিন, সাবানের ব্যবস্থা স্কুল কলেজে ব্যবস্থা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মান্যতা দিয়ে স্কুল, কলেজগুলো চলছে কিনা এখন এইসব প্রশ্ন আপামর জনসাধারণের কাছে প্রশ্ন উঠছে।

প্রায় দীর্ঘ দুই বছর স্কুল না খুলায়, পড়াশোনার মান কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে তা আজ সকলেরই জানা। সারা ভারতে পশ্চিমবঙ্গ ও দু-একটি রাজ্য ছাড়া সর্বত্রই স্কুল কলেজ খোলা ছিল। তাই আজকের এই পরিস্থিতিতে সবদিক বিবেচনা করে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার ক্ষেত্রগুলিতে যাতে সবরকম সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং স্বাস্থ্যবিধি মান্যতা দিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় এই দাবিসহ আজকের এই ঘটনায় ছাত্রছাত্রীদের মেজাজি লড়াইয়ের ভূমিকার এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন -ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সম্পাদক জাকির হোসেন মল্লিক সহ অন্যান্য নেতৃত্বগন।

Facebook Comments