অভিনব উদ্যোগ “ম্যানগ্রোভ লাগালে মিলছে শীতের কম্বল”

অভিনব উদ্যোগ “ম্যানগ্রোভ লাগালে মিলছে শীতের কম্বল”

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গল রিপোর্ট, সুন্দরবন: পূর্বাশা ইকো হেলপ্লাইন সোসাইটি ও জেনেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কমিউনিটি বেস্ট ম্যানগ্রোভ প্লান্টেশন এন্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে সুন্দরবনের বয়স্ক মানুষদের কম্বল প্রদান এর এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলেন।

পূর্বাশার সাধারণ সম্পাদক উমাশংকর মন্ডল ও জেনেক্স ফাউন্ডেশন এর অরিন্দম পোদ্দার এবং দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এই ম্যানগ্রোভ রোপনের পরিকল্পনাটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া দ্বীপের চরঘেরী, পরশমনি ও সোনাগাঁ অঞ্চলে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমিক ভাবে করছি।পাশাপাশি মানষিক স্বাস্থ্যর উন্নতির জন্য আর্থসামাজিক দিকটা বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

আমরা সকলেই জানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে কার্বন ডাইঅক্সাইড ধরে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। কেননা, অন্যান্য বনাঞ্চলের তুলনায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বেশি মাত্রায় কার্বন মজুত রাখতে সক্ষম। কেবল বেশি মাত্রায় কার্বন মজুতই নয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করে থাকে।

পরিবেশ সংরক্ষণে সোচ্চার আন্দোলনকর্মীরা আশা করছেন, ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চলগুলো দুনিয়াজুড়েই প্রাণবৈচিত্র্যের বিশেষ আধার। এসব বনাঞ্চলের বিশেষ বাস্তুতন্ত্রও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে বৃক্ষরোপণের উপযোগিতা নতুন করে বলার কিছু নেই। যা করার, তা হল স্মরণ। কীভাবে গাছপালা ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে পারে, এমন সংকট মুহূর্তে তা মনে করা উচিত আমাদের সকলের। নগরায়নের হিড়িকে ক্রমাগত গাছ কেটে ফেলতে বা জলাজমি বুজিয়ে ফেলতে আমরা এক মুহূর্তও ভাবি না। অনায়াসে তা করে ফেলি। কিন্তু তার সুদূরপ্রসারী বিপদ যে কতখানি, বোঝা গেল বুলবুলের আগমনে। নেহাত কঠিন, দৃঢ় শিকড়ের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছগুলি সুন্দরবন দ্বীপ ঘিরে রয়েছে বলে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের যতটা তাণ্ডব দেখানোর ক্ষমতা ছিল, তা পুরোটা দেখাতে পারেনি।

কারন হিসাবে জানি, ম্যানগ্রোভ গাছের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এদের ফলের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হতে থাকে, যা মাটিতে খসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোথিত হয়ে শিকড় ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই এদের শিকড়ের এত জোর। যা ভূমিক্ষয় রোধ এবং যে কোনও ঝঞ্ঝা থেকে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম। সুন্দরবন এলাকায় শতাধিক গাছের মধ্যে অন্তত ২৮ প্রজাতির গাছ ম্যানগ্রোভ প্রজাতির। যা গোটা বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

শুধু তাই নয়, এত দিন জানা ছিল, বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঝঞ্ঝার সামনে পাঁচিল হয়ে দাঁড়ায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বা বাদাবন। এ বার জানা গেল, একই সঙ্গে আরও একটা অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারা করে চলেছে। বায়ুমণ্ডল থেকে অহরহ প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড টেনে পরিবেশে লাঘব করছে দূষণের ভার। কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে খাদ্যে রূপান্তরিত করে বেড়ে ওঠে নোনা জলের উদ্ভিদরাশি। অথচ জল-মাটির বাড়তি নুনেই সেই বাদাবন দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবনের বিপুল জীব-বৈচিত্র্যের পাশাপাশি অরক্ষিত হয়ে পড়ছে পরিবেশও।

আমরা আশা করি, সমস্ত পরিবেশ সংরক্ষণকামী মানুষজন আমাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবেন এবং সহযোগিতার অংশীদারি হয়ে উঠবেন এবং যে সমস্ত মানবিক ব্যক্তিবর্গরা আমাদেরকে সাহায্য করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন রইল। আমাদের এই ম্যানগ্রোভ রোপন কর্মযজ্ঞ সারা বছর চলবে কিন্তু ম্যানগ্রোভ লাগালে মিলবে শীতের কম্বল এই প্রক্রিয়াটি চলবে ২০/১২/২০২০ পর্যন্ত।

Facebook Comments