তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লা বনাম ফুরফুরা শরীফের ভক্ত ও মূরীদগন: লিখেছেন আরাফাত আহমেদ

তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লা বনাম ফুরফুরা শরীফের ভক্ত ও মূরীদগন: লিখেছেন আরাফাত আহমেদ

পাঠকের কলমে, বেঙ্গল রিপোর্ট: আপনি পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীকে পছন্দ ও অপছন্দ করতেই পারেন। আপনি পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর বক্তব্যের সমর্থন করবেন কি না সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্বাধীন ভারতে একজন স্বাধীন নাগরিক যদি স্বাধীনভাবে তাঁর মত প্রকাশ করতে না পারে এবং দেশের অভ্যন্তরে যদি স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে না পারে তাহলে অবশ্যই স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। শাসক যদি দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে অবশ্যই শাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বাধ্য।

গত কয়েকমাস থেকে ভাঙ্গরে যেভাবে ক্যানিং পুর্বের বিধায়কের নেতৃত্বে সাধারন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে সেটা নিন্দনীয় এবং সংবিধানের উপর হস্তক্ষেপ। বাংলার বুকে তৃনমূল কংগ্রেস বিপূল জনপ্রিয়তা অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছিল ২০১১ সালে এবং পরবর্তী ২০১৬ সালেও তাঁরা দ্বীতিয় বারের জন্য রাজ্যের মসনদে। তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীকে দেখে বাংলার কোটি কোটি সংখ্যালঘূ মুসলমান তৃনমূল কংগ্রেসের পতাকা তলে বামফ্রন্টকে বিদায় জানাতে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে সংগ্রাম করেছিল। বাংলার মুসলিমদের বিশ্বস্ত নেত্রী হিসাবে মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী এক এবং অদ্বীতিয় হয়ে উঠেছিলেন। তখন কিন্তু কোন সওকত মোল্লাকে দেখে বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ তৃনমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেনি আর সওকত মোল্লা তখন সিপিএমের দূধর্ষ এক হার্মাদ বাহিনীর নেতা পরে তিনি দল পরিবর্তন করে তৃনমূল কংগ্রেসে এসেছেন।

কলকাতার এক জনসভায় আব্বাস সিদ্দিকী: ফাইল চিত্র

বাংলায় পরিবর্তনে ফুরফুরা শরীফের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে এবং ফুরফুরা শরীফের কোটি, কোটি ভক্ত ও মূরীদগন সেই পরিবর্তনে তৃনমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। আজ সেই ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী সাহেবের উপর আক্রমন এবং তাঁর অনুসারী মানেই ফুরফুরা শরীফের অনুসারী তাঁদের উপর সংগঠিত হামলা যার নেতৃত্বে বর্তমানের তৃনমূল কংগ্রেস বিধায়ক সওকত মোল্লা যিনি এক সময় মাননীয়া মমতা ব্যানার্জীর কনভয়েও হামলা করেছিল এই পৈশাচিক আক্রমন যেমন নিন্দনীয় ঠিক তেমন বাংলার কোটি কোটি মুসলামনদের স্বাধীনতায় আক্রমন। এবং আমরা জানি বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান ফুরফুরা শরীফের অনুসারী তাঁদের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাসের উপর আক্রমন যেটা ফুরফুরা শরীফের দাদা পীরের ভক্ত ও মূরীদগন কোনদিন মেনে নিতে পারবেনা। যার জ্বলন্ত উদাহারন গত ১০/০৮/২০২০ তারিখে বাংলায় প্রতিটা কোনায় পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর কনভয়ে হামলার খবর শুনে প্রতিবাদে পথ অবরোধ ও গ্রেপ্তারের দাবীতে গন আন্দোলনে জন জোয়ার। যে প্রতিবাদ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ফুরফুরা শরীফের ভক্ত ও মূরীদগন পথে নেমে সংগঠিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন আউলাদে মোজাদ্দেদ জামানদের উপর আক্রমন করলে কি হতে পারে?

এখন লড়াইটা সওকত মোল্লা বনাম পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী নয় এখন সওকত মোল্লা বনাম ফুরফুরা শরীফের ভক্ত ও মূরীদগন। তৃনমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী যদি সওকত মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কার না করেন তাহলে আগামীদিনে প্রতিটা গ্রামে তৃনমূল কংগ্রেস চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বিপূল সংখ্যক সংখ্যালঘূ মুসলমান তৃনমূল কংগ্রেস থেকে মুখ ফিড়িয়ে নেবে।

সর্বোশেষে বলবো এক সওকত তৃনমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে আগুন লাগিয়েছে আগামীদিনে দেখা যাবে সেই আগুন নিভাতে কতটা সদর্থক ভূমিকা পালন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃনমূল দলের সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী।

কলমে:- সেখ আরাফত আহমেদ, হুগলী

Facebook Comments