হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত

হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত

বেঙ্গল রিপোর্ট, ডিজিটাল ডেস্ক: হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা- ‘আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বজগতের জন্য বিশেষ রহমতস্বরূপ।’ (সূরা আম্বিয়া-১০৭)। তিনি ধনী-দরিদ্র সাদা-কালো সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি দার্শনিকই ছিলেন শুধু তাই নয়; বরং তিনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা নিজেই এর বাস্তব নমুনা হিসেবে মানবজাতির জন্য পেশ করেছেন।
পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অঞ্জাম দিয়েছিলেন অত্যন্ত সুচারু রূপে। রাসূল (সা.) পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর একটি জাতিকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণিত করে পৃথিবীতে অনাগতের জন্যও এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন রেখে গেছেন।
রাসূল (সা.) বিশ্বজাহানে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি সফল ব্যক্তিত্ব।
ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় বলা যায় ‘সমগ্র দুনিয়াটাকে যদি একত্র করে একজনের নেতৃত্বে আনা যেত তাহলে নানা ধর্মমত, ধর্ম বিশ্বাস ও চিন্তার মানুষকে শান্তি সুখের পথে পরিচালনার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই হবেন সর্বোত্তম যোগ্য নেতা।’
রাসূল (সা.) সেই শৈশব জীবন থেকেই সত্য, পরোপকারিতা, অন্যের অধিকারের ব্যাপারে ছিলেন সদা তৎপর। রাসূল (সা.) শৈশবে মা আমিনার কাছ থেকে লালিত-পালিত হতে থাকলেন দুধ মা হালিমা আস-সাদিয়ার কাছে। তিনি সবসময় মা হালিমার একটি স্তন পান করতেন, অপর স্তনটি দুধ ভাইয়ের জন্য রেখে দিতেন।
কখনো চেষ্টা করেও অপর স্তনটি খাওয়ানো যায়নি। রাসূল (সা.) কৈশরে আরবের পপাচার ও মিথ্যার প্রলেপে আবৃত নোংরা সমাজ ব্যবস্থায় সত্যবাদিতার এক অনন্য নজির ছিলেন। তাই তিনি যা বলতেন সবাই বিনাবাক্যে তা মেনে নিতেন। তাই তাঁকে সবাই আল-আমিন বা আস-সাদিক বলে ডাকতেন। যদিও বা তিনি যখন আল্লাহর নির্দেশে ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু’ এর ঘোষণা দিলেন, তখন মক্কার অধিপতিরা নড়েচড়ে বসলেন। তাঁর উপস্থাপিত মতাদর্শকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে তাঁর প্রতি জুলুম নির্যাতন ও মিথ্যাচার চাপিয়ে দিলেন।

কিন্তু তিনি তাঁর বিশ্বাসের ওপর ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল থাকলেন। তিনি বিশ্বাসীদের নিকট এক অনন্য দলীল। তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তা দেখে পরবর্তী সময়ে হযরত বেলাল, খোবায়েব-খাব্বার, আম্মার বিন ইয়াসির ইসলামের ছায়াতলে অংশগ্রহণ করে আত্মত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। যাদের ত্যাগ কুরবানীর ইতিহাস পৃথিবীর প্রতিটি অনাগত বিশ্বাসী মানুষের জন্য আল্লাহর পথে দৃঢ় পদে এগিয়ে
যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগাবে।
রাসূল (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির শুরুর দিকে গোপনে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে এক বৃদ্ধ মহিলা রাসূল (সা.) এর ইসলাম প্রচারের মিশনের কথা শুনে ক্ষুব্ধ হলেন। তাই তিনি মুহাম্মদ (সা.)কে কষ্ট দেয়ার পরিকল্পনা আঁটলেন। পরিকল্পনা মাফিক প্রতিদিন রাসূলের হাঁটার পথে কাঁটা পুঁতে রাখতেন, আর রাসূল (সা.) কষ্ট করে তা সরিয়ে দিতেন। এভাবে বেশ ক’দিন চলল, একদিন দেখা গেল সেই রাস্তায় কাঁটা নেই। রাসূল (সা.) বুড়ির মায়ের খোঁজ নিলেন, ভাবলেন তিনি কী অসুবিধায় পড়েছেন? খোঁজ দেখা গেল, তিনি অসুস্থ। তাই তিনি তার খোঁজ নিতে তার শিহরে গিয়ে হজির হলেন! রাসূল (সা.) তার অসুবিধার (অসুস্থতার কথা শুনলেন, খোঁজখবর নিলেন) এতে বুড়ি মা বিস্মিত হলেন! যে লোকটিকে কষ্ট দেয়ার জন্য চলার পথে প্রতিদিন কাঁটা পুঁতে রাখতাম সেই কিনা আমার খবর নিতে এসেছেন? তিনি নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
রাসূল (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ইসলামের দাওয়াত প্রচারে তায়েফে সফর করেন। তায়েফবাসীকে ইসলামের পতাকাতলে আহ্বান জানালেন। তারা রাসূল (সা.) এর দাওয়াত গ্রহণ না করে খারাপ আচরণ করলেন। তায়েফবাসীর (কাফেরদের) আক্রমণে তিনি মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন, শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে পায়ের সাথে জুতা ও মোজায় জট বেঁধে যায়। এত কষ্টের পরেও তিনি আল্লাহর দরবারে তায়েফের কাফেরদের জন্য লানত না করে দোয়া করলেন। এতে রাসূল (সা.) কতবেশি ধৈর্যশীল ও শান্তিকামী ছিলেন তার পরিচয় বহন করে!

রাসূল (সা.) যা বলতেন তা বিশ্বাস করতে ও কাজে পরিণত করতেন। যা সাহাবীরা স্বচক্ষে অবলোকন করেছেন। বার্নাডস তার দর্শনে লিখেছেন একজন ব্যক্তির জীবনে একটির বেশি বিয়ে করতে নেই। কিন্তু তিনি জীবনে তিনটি বিয়ে করেছিলেন। একদিন তার এক শিষ্য তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনি আপনার দর্শনের সাথে মিলিয়ে আপনার জীবন পরিচলনা করেন না কেন?
তিনি বলেছিলেন, দর্শন আর জীবন এক নয়। সেদিক দিয়ে আমরা রাসূল (সা.) এর জীবনকে পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই তিনি ছিলেন মানবতার জন্য এক প্রজ্বলিত জীবন দর্শন। যখন খোন্দকের যুদ্ধের জন্য পরিখা খনন কাজ চলছিল তখন তিনি নিজেই মাটি খননের কাজ করছিলেন! সাহাবারা তাঁর কাজে দেখে তাদের কাজে আরো বেশি উদ্যমী হলেন। তাঁর ব্যক্তি জীবন সারা জাহানের নেতৃত্বের জন্য আছে অতুলনীয় শিক্ষা।

Facebook Comments