প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল অবৈধ ইসরায়েলের রাজপথ

চিত্র- রয়টার্স

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল অবৈধ ইসরায়েলের রাজপথ

ডিজিটাল ডেস্ক, বেঙ্গল রিপোর্ট: সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের নাগরিকরা৷ অবৈধ দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ৷ টানা ২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে উত্তর ইসরায়েলের শহর পারডেস হানা থেকে তেলআবিবে পৌঁছেন ম্যাগি শাহার৷ কিন্তু তার কোনো ক্লান্তি নেই৷ এতদূর এসেই সোজা যোগ দিলেন নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে চলমান প্রতিবাদে৷

শাহার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ৷ আমি জানি না কোনো বদল আসবে কি না; কিন্তু চুপ থাকা এখন অসম্ভব আমার পক্ষে৷ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেই দেখুন৷ তার বিরুদ্ধে জমা অভিযোগের ফলে বিচারাধীন তিনি৷ কিন্তু তা-ও অনায়াসে ক্ষমতায় বসে আছেন৷ তারপর করোনা সংক্রমণের কথা ভাবুন৷ কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে নেই৷ একদিকে আছেন নেতানিয়াহু ও তার বন্ধুরা, আর অন্যদিকে আমরা সাধারণ জনগণ৷

দুই সপ্তাহ ধরে সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে উঠে আসা মানুষ তাদের পেশা ও আর্থিক সামর্থ্য-নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছে৷ ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবের রাজপথ মুখর হয়ে আছে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ব্যর্থতার পাশাপাশি আর্থিক মন্দার বিরুদ্ধেও৷ সোমবার (২০ জুলাই) এই প্রতিবাদে শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী, সমাজকর্মীদের পাশাপাশি নার্সরাও যোগ দেন৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুর দিকে যদিও প্রশংসিত হয় নেতানিয়াহুর কড়া হাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত; কিন্তু পরে যখন এপ্রিলের শেষের দিকে মন্দা গ্রাস করতে থাকে ইসরায়েলের অর্থনীতিকে, সমালোচনার মুখে পড়তে শুরু করেন নেতানিয়াহু৷ মে মাসের শুরুতে সংক্রমণ কমে এলে বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিলও করা হয়৷ কিন্তু এর দুই মাস পর, বর্তমানে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণের মুখোমুখি ইসরায়েল৷ এখন দিনে প্রায় ২০০০ নতুন সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে সেখানে৷

কিন্তু এত কিছুর পরও বিচারাধীন মামলার বিষয়ে নির্লিপ্ত ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। গত রবিবার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের একটি মামলা আদালতে ওঠার দিনেও তাকে হাজিরা দিতে দেখা যায়নি৷ জনরোষ কিছুটা ঠেকাতে নেতানিয়াহু নাগরিকদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণের প্রকল্প হাতে নেন৷ তিনি বলেন, এই টাকা দিয়ে জিনিস কিনলে দেশের অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হবে৷ প্রায় ছয় বিলিয়ন শেকেল (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) খরচ করেও এই প্রকল্প থেকে আশানুরূপ ফল মেলেনি৷

সূত্র- রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড

Facebook Comments