ম্যানগ্রোভ ম্যানের উদ্যােগে সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ বন্ধন উৎসব

ম্যানগ্রোভ ম্যানের উদ্যােগে সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ বন্ধন উৎসব

বিশেষ প্রতিবেদন, বেঙ্গল রিপোর্ট, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: প্রতিটা প্রকৃতির রোষে, প্রতিটা ভয়াবহ দুর্যোগে সেই কথাটাই যেন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ‘অতি-উন্নত’ আবার ‘অতি-নির্বোধ’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীব মানুষ। যাঁরা নিজেদের প্রয়োজনে, নিজেরাই একটু একটু করে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। তবু প্রকৃতি-মা নিরলস তার কাজে, তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। আজও গাছের শিকড়ে ভূমিক্ষয় আটকে, নদীর বুকে বন্যাকে ধারণ করে, ম্যানগ্রোভের আড়ালে সাইক্লোনকে যথাসাধ্য লুকিয়ে ফেলে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে আমাদের।

সম্প্রতি সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’-ই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছে আমাদের। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ না থাকলে কোন ধ্বংসলীলা চাক্ষুস করতে হত মানবজাতিকে। ১৮০-১৮৫ কিমি গতিতে সুন্দরবনে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় বেগ কমিয়ে নেমে এল ১২০-১৩০-এ। কিন্তু সেই ম্যানগ্রোভই আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। পরিবেশবিদরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের অতন্ত্র প্রহরী ম্যানগ্রোভ।
গরম যাচ্ছে সৌরমণ্ডলের একমাত্র বাসযোগ্য এই গ্রহ। বরফ গলেছে হিমবাহের। জলস্তর বেড়েই চলেছে একটু একটু করে। আর সমুদ্রের সেই বেড়ে যাওয়া জলস্তরই অসনী সংকেত দিচ্ছে ম্যানগ্রোভকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন প্রতি বছর সমুদ্রের জলস্তর ৩.৫-৪ মিলি মিটার করে বাড়ছে। সেটা যদি বছরে ৬ মিলি মিটারের কাছাকাছি চলে আসে তা হলেই বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করবে ম্যানগ্রোভের। কারণ ওই পরিমাণ জলের মধ্যে নতুন গাছ আর জন্ম নিতে পারবে না। ম্যানগ্রোভকে সারা পৃথিবীর উপকূলের রক্ষাকর্তা বলা হয়। পাশাপাশি, জৈব বৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এর অবদান অসামান্য। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কার্বোন নির্গমনে এখনই লাগাম না টানা যায় তা হলে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। তখন আর কিছুই করার থাকবে না।

কবির ভাষায়ঃ- দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি…

ম্যানগ্রোভ ম্যানের উদ্যােগে ম্যানগ্রোভ বন্ধন উৎসবে এগিয়ে এসেছেন
সুন্দরবনের সাতজেলিয়ার লাহিড়ীপুর অঞ্চলের পরশমনির গ্রামের এই মায়েরা নতুন ভাবে পথ দেখাবে। ওরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

Facebook Comments