নন্দীগ্রামে সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে লাল ঝান্ডা খুলে কালো পতাকা টাঙালেন শহিদ পরিবার

নন্দীগ্রামে সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে লাল ঝান্ডা খুলে কালো পতাকা টাঙালেন শহিদ পরিবার

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, কাঁথিঃ দীর্ঘ প্রায় একদশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা নন্দীগ্রামে সিপিএমের পার্টি অফিস সিপিএমের রাজ্য নেতা রবীন দেবের হাত ধরে রবিবার আবার নতুনভাবে পথচলা শুরু হয়েছিল। সেই অফিস চালুর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই আবার বন্ধ হয়ে গেলো সিপিএমের পার্টি অফিস। তবে শাসকদল বা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা নয়, নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের লোকেরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

 

লোকসভা নির্বাচন আসতেই নন্দীগ্রামে ১২ বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা দলীয় কার্যালয় রবিবার খুলে ছিলো সিপিএম। তার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের শহিদ ও নিখোঁজ পরিবারের লোকজন লাল পতাকা খুলে পাশে পুকুরের জলে ফেলে অফিসে পুঁতে দিল কালো পতাকা। আবারও বন্ধ হয়ে গেল সেই অফিস।

তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থী ইব্রাহিম আলীর নেতৃত্বে রবিবার বেলা ১১ টাগাদ নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ামোড় থেকে মিছিল করে গিয়ে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কমরেড সুকুমার সেনগুপ্ত ভবনটি খুলেছিলো সিপিএমের সমর্থকেরা।সেই মিছিলে পা মিলিয়ে ছিলো সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রবীন দেব,সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।সোমবার সেই অফিসে ফের তালা ঝোলালো এলাকাবাসী। প্রসঙ্গত গত ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারীর পর থেকে সিপিএমের এই অফিসটি এলাকাবাসীর আন্দোলনের চাপে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও অফিস খুলে ইব্রাহিম আলি ও রবীন দেব দাবী করেছিলেন,” তৃণমুল তাদের এই অফিসে ভাঙ্গচুর চালিয়ে দখল করে রেখেছিলো এতো বছর। এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে তাঁরা এদিন এই অফিস খুললেন।” যদিও এলাকাবাসীদের দাবী, তারা সিপিএমের সাথে নেই। তাই সুকুমার সেনগুপ্ত ভবন খোলার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফের এই অফিস বন্ধ করে দিলো এলাকাবাসী সাউৎখালির বাসিন্দা পলাশ গিরি জানিয়েছেন, ১৪ মার্চের ঘটনায় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে তার ভাই।এখনো বহু মানুষের খোঁজ নেই। একই ভাবে শহীদ সুব্রত সামন্তের স্ত্রী শ্রীমতি সামন্তও জানিয়েছেন এখানে সিপিএমের দলীয় অফিস খুলতে দেওয়া হবে না।

আন্দোলনকারীদের দাবী যতক্ষণ না দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে, নিখোঁজেরা বাড়ি ফিরছে এলাকায় সিপিএমের পার্টি অফিস খুলতে দেওয়া হবেনা।বলেন গত কাল সিপিএমে যখন এখানে এসেছিলো তাঁদের জানা ছিলোনা। পরে সংবাদ মাধ্যমের থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাই সোমবার তাঁরা এই অফিসে এসে ফের তালা লাগিয়ে দিয়ে গেলেন।আন্দোলনকারীরা পার্টি অফিসের চারদিকে লাগানো লাল পতাকা খুলে ফেলে দেন।তার পর সেখানে কালো পতাকা লাগিয়ে দেন তাঁরা। এ বিষয়ে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমুল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,” মানুষের মন থকে সিপিএমের অত্যাচারের ঘটনা মুছেনি। মানুষ চায়না সিপিএমকে।তা আর একবার প্রমান হল।”

Facebook Comments