করোনা আবহে বিদ্যালয় ছুটিতে’ শিশু পড়াই’ কর্মসূচিতে গ্রামে গিয়ে পাঠদান প্রেসিডেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি মিমোসা

করোনা আবহে বিদ্যালয় ছুটিতে” শিশু পড়াই’ কর্মসূচিতে গ্রামে গিয়ে পাঠদান প্রেসিডেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি মিমোসা

সুব্রত গুহ,বেঙ্গল রিপোর্ট,পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা কালের আটমাস পেরিয়ে গেল প্রায়। উৎসব,মেলা,খেলা সব কিছু পর্যায় ক্রমে খুলে গেলেও বন্ধ শুধু চেতনায় শান দেওয়ার গর্ভগৃহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দরজাগুলো !“ শিক্ষা আনে চেতনা,চেতনা আনে বিপ্লব,বিপ্লব আনে মুক্তি ” লকডাউনের এই আট মাসে মানব সমাজের মুক্তির সেরা অস্ত্র “ শিক্ষা “শুধু ভোঁতা হয়নি, মরচে পড়েছে শিক্ষার্থীর মনোজগতে। শ্রেণিকক্ষ ,বীক্ষনাগার , গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ,ক্যান্টিনের কলকাকলি শুধু হারিয়ে যায়নি, হারিয়ে যাচ্ছে শিশুমনের কোমলমতি সাবলীল ভাবগুলিও। ছাত্রাবস্থার খুনসুটি -বন্ধু হীনতা, শিক্ষক -শিক্ষার্থীর নিবিড় সম্পর্কের শৈথিল্য ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত করছে শিক্ষার্থীকূলকে।

করোনা অতিমারির প্রাথমিক দিকের দু’চার মাস কষ্টকর দমবন্ধ অবস্থা কাটানোর পর দিন যত গড়িয়েছে প্রতিটি পরিবারে শিক্ষা আর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রমশ চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কাঁথি-১ব্লকের শৌলা গ্রামে লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ইয়ের চলো গ্রামে যাই শিশু পড়াই কর্মসূচিতে সামিল হয়ে পাঠদান করলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি মিমোসা ঘোড়ই। মঙ্গলবার ‘চলো গ্রামে যাই শিশু পড়াই কর্মসূচি’র ৫৮তম দিনে ষষ্ঠশ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জলদূষণ, বায়ুদূষণ ও বর্জ্য পদার্থ-এসবের কুফল নিয়ে পাঠদান করে প্রেসিডেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি মিমোসা বলেন, “ আমি এম. এস. সি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী , আমারই মোবাইল – ল্যাপটপে অনলাইন ক্লাস প্রাণহীন পাথরের মতো মনে হয় । সিলেবাসের চাপে ভাল না লাগলেও বাধ্য হচ্ছি অনলাইন ক্লাসে ।তাহলে স্কুল লেভেলে ছোটদের মনের অবস্থা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না – ওদের কতটা কষ্ট ! লকডাউনে ও আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন ও কলেজ পাড়ার মানুষ , শিক্ষার্থী এবং বইপাড়ার পাশে দাঁড়াতে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে দু’তিনবার কলকাতায় গিয়েছিলাম ।বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তারপর থেকেই শিক্ষাঙ্গন ছেড়ে বাড়িতে বসে বসে বোর হচ্ছি , ভালো লাগছে না । ক্রমশ যেন হাঁপিয়ে উঠছি । কবে খুলবে আমার প্রিয় প্রানের শিক্ষালয়, আমাদের মুক্তির প্রানকেন্দ্র।

মিমোসা আরও বলেন,”বাবা,মাকে কাছ থেকে দেখছি গোটা লকডাউন পিরিয়ড জুড়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে। তাই ,বন্ধু -হীনতা, গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত হতে ও মনের আনন্দে ছোট ছোট ভাই-বোনেদের পড়াতে যাচ্ছি বাবা -মায়ের সঙ্গে। পড়ানোর শেষে ওদের একটাই কথা,‘ দিদি (ম্যাডাম ), স্কুল কবে খুলবে !’ বুঝলাম ছোট-বড় সব শিক্ষার্থীর মনের অবস্থা একইরকম। ওদের আবদার, ‘ দিদি , আবার আসবে তো !’ বললাম , “হ্যাঁরে, ইউনিভার্সিটি না খোলা পর্য্যন্ত আসবো নিশ্চয়ই।” সত্যই কি বিচিত্র দেশ- রাজ্য ! বিচিত্র চিন্তা ! রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ সবই চলছে ,করোনা শুধু চোখ রাঙাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে !!ক্ষেদ মিমোসার গলায়। প্রেসিডেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি মিমোসার আজকের পাঠদানে সহায়তা করতে মিমোসার মা কাঁথি চন্দ্রামনী ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্নারানি মন্ডল ও জুনবনী রবীন্দ্র বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ বেরাও ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করেন।

Facebook Comments