বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানা ও আদিবাসী গাঁওতার যৌথ উদ্যোগে হুল দিবস পালন

বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানা ও আদিবাসী গাঁওতার যৌথ উদ্যোগে হুল দিবস পালন

সেখ রিয়াজউদ্দিন, বেঙ্গল রিপোর্ট, বীরভূম: আজ ৩০শে জুন সমগ্র দেশজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয় হুল দিবস। ১৮৬৫ সালে সিধু-কানুর নেতৃত্বে ভগ্নাডিহি গ্রামে সংগঠিত হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের বিদ্রোহ। এটিই ইংরেজদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার প্রথম সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন। সাওতাল বিদ্রোহ দমনে কানুকে ফাঁসি দেওয়া হয় আর সিধুকে গুলি করে মারে ইংরেজ সিপাহিরা। সেই স্মৃতির স্মরনে প্রতিবছর পালিত হয় হুল দিবস। তাই আজ বীরভূম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং বীরভূম জেলা আদিবাসী গাঁওতা ও মহম্মদবাজার থানার ব্যবস্থাপনায় আদিবাসী অধ্যুষিত দেওয়ানগঞ্জ গ্রামে মহাসমারোহে পালিত হয় হুল দিবস। এই উপলক্ষে এদিন অদিবাসী মহিলারা অদিবাসী নৃত্য প্রদর্শন করেন।

পাশাপাশি মহম্মদবাজার থানা ও আদিবাসী গাঁওতার মধ্যে একটা প্রীতি ফুটবল খেলার অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলায় অংশ নেন মহম্মদবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সেখ মহম্মদ আলী, আদিবাসীদের পক্ষ থেকে ছিলেন অদিবাসী গাঁওতার বীরভূম জেলা সম্পাদক রবীন সরেন সহ অন্যান্য অদিবাসীরা। এছাড়াও মহিলাদের ফুটবল খেলা সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এদিন উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক সরকার, ডিএসপি (ডিএণ্ডটি) অয়ন সাধু, সিউড়ি সদর সার্কেল ইন্সপেক্টর চন্দ্রশেখর দাস সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। এদিন জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জনিয়েছেন।

অন্যদিকে আদিবাসী গাঁওতার জেলা সম্পাদক রবীন সরেন জানান, আজ হুল দিবস উপলক্ষে মহম্মদবাজার থানার সাথে আদিবাসী গাঁওতার মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। অনেকদিন পর খেলার ময়দানে নেমে খুব ভালো লাগল। পাশাপাশি তিনি বলেন, সিধু কানু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের জমি ও জঙ্গলের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য যে আন্দোলন করে ছিলেন তা চিরস্মরণীয়। প্রতিবছর দিনটি হুল উৎসব হিসেবে মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে।

Facebook Comments