শারদীয়ার প্রাক্কালেই ভূমিহীনদের মাঝে পাট্টা বিতরণ করলেন বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ

শারদীয়ার প্রাক্কালেই ভূমিহীনদের মাঝে পাট্টা বিতরণ করলেন বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ

মাহমুদুল হাসান, বেঙ্গল রিপোর্ট, উত্তর চব্বিশ পরগনা: উত্তর চব্বিশ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমিহীন মানুষদের মধ্যে পাট্টা বিলি করলেন উত্তর 24 পরগনা জেলা পরিষদের বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ।

এই পাট্টা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মফিদুল হক সাহাজি, দেগঙ্গার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুব্রত মল্লিক, বিএলএলআরও পার্থ লোধ, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য আনিসুর রহমান বিদেশ, সুব্রত বসু (কৃষ্ণ), রবিউল ইসলাম, পম্পা দত্ত প্রমূখ।

এদিন এ কে এম ফারহাদ বলেন, রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ ভূমি নিজ গৃহ, কৃষি পাট্টা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন মানুষদেরকে পাট্টা দেওয়াসহ বিভিন্ন রকম প্রকল্প গ্রহণ করছেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সেই কাজ কে ত্বরান্বিত করতে জেলাস্তর থেকে সেই সমস্ত প্রকল্পগুলো মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা করছি। বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে গিয়ে আমরা এই সমস্ত ভূমিহীন অসহায় মানুষদের কাছে পাট্টা তুলে দিচ্ছি। এরই সাথে সাথে ফারহাদ আরো বলেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মন্ত্রীও মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং, প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষদের কোন সমস্যার সম্মুখীন না হন তার জন্য তিনি যথেষ্ট সক্রিয়। তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূমি দপ্তর এর বিভিন্ন কাজকে সরলীকরণ করার জন্য অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন। বিগত দিনে এসমস্ত কাজে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মাধ্যম অবলম্বন করতে হত, মানুষ ব্যপক হয়রানির শিকার হত। কিন্তু বর্তমানে মিউটেশন থেকে শুরু করে এমন অনেক ব্যবস্থাই অনলাইনে বাড়িতে বসেই সম্ভব হচ্ছে। মানুষের হয়রানি কে কমানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগ।

দেগঙ্গা সহ বিভিন্ন ব্লকে আগামী দিনে আরো বেশি মানুষের হাতে পাট্টা তুলে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারহাদ। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক প্রকল্পের জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় খাস জমি চিহ্নিত করণ করে অতি শীঘ্রই আমরা তা শিল্পের জন্য ব্যবহার করব। একদিকে যেমন কৃষি পাট্টার মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অপরদিকে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করে শিল্প বিপ্লব ঘটানোর যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই বিশ্বস্ত সেনাপতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দের সহযোগিতায় ও পরামর্শে আমার দপ্তর এর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছি। ডিএম চৈতালি চক্রবর্তী, এডিএম এলআর ইউনিস রিচিং ইসমাইল এর সক্রিয় সহযোগিতায় মানুষের কাজকে আরও ত্বরান্বিত করতে সম্ভবপর হয়ে উঠেছে।

এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে থেকে তিনি সকল রাজ্যবাসীকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। দুর্গাপুজোর আনন্দঘন মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব বিধি, মাক্স, স্যানিটাইজার ব্যবহারের জন্য তিনি মানুষকে সচেতন করেন। এ বিষয়ে এ কে এম ফারহাদ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে কোভিড এখনো আমাদের থেকে চলে যায়নি, তাই সে বিষয়ে আমাদের যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন মাক্স, স্যানিটাইজার ও সামাজিক দূরুত্ব বিধি কে আমাদের জীবনের নিত্য সঙ্গী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।

Facebook Comments