দূর হোক ধর্মীয় বিভেদ : মুছে যাক হিংসা বিদ্বেষ

তারিফ আলম, বেঙ্গল রিপোর্ট:
ধর্ম নিয়ে মানুষে – মানুষে বিভেদ কোন দিন ছিল না। প্রাচীন কাল থেকে ধর্মগুরু ও রাজারা নিজেদের সমাজে প্রাধান্য বৃদ্ধি ও ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই বিভেদকে সৃষ্টি করেছে ও ব্যবহার করে এসেছে । সাধারন সব ধর্মের মানুষের মনে কোন ধর্মীয় বিভেদ নেই । যদি থাকে সেটা মেকি……… তৈরি করা( ধর্মগুরু ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা ) । একজন সাধারন মানুষ দোকানে খাবার খাওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করবে না , খাবার টা কোন ধর্মের লোক তৈরি করেছে । নিজের ক্ষুধা মেটানোই তার উদ্দেশ্য । কিন্তু একজন ধর্মীয় নেতা অবশ্যই খোঁজ নেবেন । কারন মানুষের মধ্যে বিভেদের মন্ত্র দিতে দিতে তাঁদের মনটাও কালো হয়ে গিয়াছে ।
প্রসঙ্গত পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থেই লেখা নেই যে, অপর ধর্মের মানুষকে ” ঘৃণা ” করার কথা । সাধারন মানুষের ধর্মগ্রন্থের কঠিন বিষয়গুলো সব পড়ার ও সঠিক ভাবে অনুধাবন করার ক্ষমতা থাকে না । এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ধর্মগুরুরা কিছু ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে ভুল পথে চালিত করে নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে ।
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ । আর এই বিজ্ঞানকে বড় ভয় ধর্মগুরুদের । তাঁদের কাছে এই বিজ্ঞান শিক্ষা বড়ই অচ্ছুত । মানুষ জেনে গেলে সত্যিটা তাঁদের প্রাধান্যের দিন শেষ হয়ে যাবে । তাঁদের কথা আর কেউ শুনবে না। তাই তাঁরা বিজ্ঞানকেই ব্যবহার করে সুকৌশলে বর্তমান প্রজন্ম- এর মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করার প্রয়াস চালু করেছেন ।
বর্তমান যুগে ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এই সব ধর্মগুরু ও রাজনৈতিক নেতারা শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করার নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন । এর জন্য তাঁরা কিছু অল্প শিক্ষিত যুবকদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের দলে সামিল করছেন । তারপর তাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে … কি ভাবে ফেসবুকে ফেক আইডি তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ গুলোতে ধর্মীয় বিভেদ মুলক লেখা ও ছবি পোস্ট করতে হবে । কি ভাবে অপর ধর্মের মানুষদের জাত তুলে অশ্লীল গালাগাল করতে হবে । ফটো এডিট করে না ঘটা ঘটনাকে ঘটাতে হবে আর যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ মুলক মানসিকতার জন্ম দিতে হবে ।
এই ট্রেনিং প্রাপ্ত লোকেরা বর্তমানে ফেসবুক এর দুনিয়াতে ছেয়ে গিয়েছে । ফেসবুক খুললে প্রতিদিনই এই সব ধর্মীয় বিভেদ মুলক পোস্ট দেখতে পাই ।
কিন্তু বর্তমানের যুব সমাজ এত বোকা নয় যে ধর্মীয় নেতাদের ফেলা এই রকম ফাঁদে পা দেবে । তারা এই সম্পর্কে খুবই সচেতন । তবে এটা সত্যি যে অল্প কিছু অল্প শিক্ষিত যুবক এই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছে । তাদের কে বোঝাতে হবে যে এটা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের সঙ্কীর্ণ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য করা কত বড় চক্রান্ত । ধর্ম নিয়ে মারামারি করে সাধারন মানুষের কোন লাভ হয় না , বরং অনেক ক্ষতি হয়ে যায় । লাভ তো হয় শুধু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের।

Facebook Comments