প্রবলবৃষ্টিতে কেলেঘাইয়ের উপচে পড়া জলে বানভাসি সবংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ

প্রবলবৃষ্টিতে কেলেঘাইয়ের উপচে পড়া জলে বানভাসি সবংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: কেলেঘাই আবারও সর্বগ্রাসী, বাঁধ উপচে পড়া জলে দুপারে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। সোমবার থেকে সবং এর কেলেঘাই নদী পাড়ের প্রান্তিক মানুষের ঘুম টুটেছে। কেলেঘাইয়ের শাখা/উপনদী কপালেশ্বরী নদী , সাহেবের খাল লাগোয়া সংকীর্ন জমিদারী বাঁধ উপচে জল জন বসতিতে ঢুকছে।

সুন্দরপুর গ্রামের মানুষ ও কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়ই জানান, “নদীতীরের প্রান্তিক ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে সারারাত ঘরের বাইরে ত্রিপল টাঙিয়ে বাঁধের উপর কোনক্রমে দিন গুজরান করছেন মানুষ -গরু -বাছুরের সঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া -ঘুম সবই উড়েছে! জন্মস্থান থেকে দূরে থেকেও আপন জনদের কথা ভেবে আমরাও ভালো নেই মোটেই।বাঁধ উপচে জল ঢুকছে। ব্যাপক জলের চাপ মাটির বস্তা দিয়ে আটকানোর গ্রামবাসীদের রাত -জাগা চেষ্টা যে কোন মুহুর্তে বিফলে যেতে পারে।

মাথায় হাত গ্রাম বাসীদের।” বসন্তবাবুর কথায়, “অতি বর্ষায় কেলেঘাইয়ের খর জলস্রোত হলদি নদীতে মিশতে পারলে ভাটার টানে জল নেমে যেত দ্রুত। কেলেঘাইয়ের উপর অংশে এভাবে ফুলে -ফেঁপে উঠত না জল! কঠিন সত্য এটাই নাঙ্গলকাটার কাছে ভয়ানক মাত্রায় পলি জমে যাওয়ায় – দীর্ঘদিন খনন না হওয়ার ফলে ও রাজনৈতিক কারনে নদীর বুকে অবৈধ ইটভাটা, মাছের ভেড়ি গজিয়ে ওঠায় আজ আবারও কেলেঘাই নদী তীরের মানুষের দুর্দশার শেষ নেই।” কেলেঘাই নদীর জলে সবং থানার চাউলকুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর, খড়িকা, আন্দুলিয়া, ভঞ্জপাড়া, পরশপুর একের পর এক গ্রাম ডুবেছে আর হাজার হাজার মানুষ বানভাসি হয়েছেন।

Facebook Comments