করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ঢালাও নাম্বার, ভর্তি নিয়ে সমস্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ছাত্রছাত্রীরা

করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ঢালাও নাম্বার, ভর্তি নিয়ে সমস্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ছাত্রছাত্রীরা

রাকিবুল আলম, বেঙ্গল রিপোর্ট, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: করোনা মহামারীর মধ্যে শেষ পরীক্ষা গুলি অনলাইনে দিয়ে পাস করার পর স্নাতক উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তির জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলিতে আবেদন করেছে। কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষার নম্বর কলেজের হাতে ছেড়ে দেওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে অনেক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তবে সবকিছু উপেক্ষা করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদনকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেছে। আর এই লিস্ট দেখে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর রীতিমতো ভিমরি খাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এবছর স্নাতকস্তরে পাসের হার প্রায় ১০০%। অনেক ছাত্রছাত্রী স্নাতকে ৭০% থেকে ৭৫% বা তার বেশি নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েও বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজ গুলিতে ভর্তির জন্য মোট যে আসন সংখ্যা বরাদ্দ রয়েছে তার বহু গুণ বেশী আবেদন জমা পড়েছে। আর তা দেখে রীতিমতো চক্ষুচড়কগাছ অনেক ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে তাদের অভিভাবকদের। আদৌ তারা স্নাতকোত্তর এ ভর্তি হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ।

প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশান বিভাগে বরাদ্দকৃত মোট আসনসংখ্যার প্রায় পঁচিশ থেকে তিরিশ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশান বিভাগের জন্য মাত্র ১০৪ টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে প্রায় ৩০০০ ছাত্র-ছাত্রী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন ক্যাম্পাস ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে ইতিহাস বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা ৩৭৩ টি কিন্তু এর জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১৭৫৪ টি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ইংরেজি বিভাগের জন্য মাত্র ৪২৩ টি আসন রয়েছে কিন্তু এর জন্য আবেদন করেছে ২৫০০ এর অধিক ছাত্রছাত্রী।

একইভাবে এম.কম বিভাগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অনুমোদিত কলেজগুলিতে মোট বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা ১২৭৮ টি কিন্তু এর জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৫৭২২টি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যান্য স্নাতকোত্তর বিভাগেও বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যার নিরিখে আবেদনকারীর সংখ্যার একই বেহাল অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও আবেদন সংখ্যা এত বেশি মাত্রায় জমা পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কোটা মেনে ভর্তি নিলে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বহু ছাত্রছাত্রীর। আর এতেই রীতিমতো বিনা মেঘে বজ্রপাত দেখছেন অনেক ছাত্রছাত্রী। যারা স্নাতকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য আবেদন প্রার্থী।

এহেন পরিস্থিতিতে হতাশ ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী যারা তাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা জীবনে অনিশ্চয়তা দেখছে। এসকল ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের ভর্তি হওয়া নিয়ে যেমনটা বিচলিত তেমনি ভর্তি হতে না পারলে তারা ঠিক কি করবে তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকে মনে করছেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে বরাদ্দকৃত মোট আসন সংখ্যা বাড়ানো দরকার। আর তা না করা হলে ভবিষ্যৎ পড়াশোনা জীবন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে বহু ছাত্র-ছাত্রীর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাকিবুল আলম স্নাতকে অনার্স বিভাগে ৭০% নম্বর নিয়ে পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েই জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগে স্নাতকত্তরে ভর্তির জন্য আবেদন করে। তবে প্রভিশিনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশ হওয়ার পর সম্পূর্ণ তালিকা দেখে তার ভর্তি এক প্রকার অনিশ্চিত বলে সে মনে করছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ৭৫% এর উপরে নম্বর নিয়ে পাশ করেও নিজের ভর্তি নিয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্যানিংয়ের “বঙ্কিম সর্দার কলেজ”, সুন্দরবনের “সুন্দরবন হাজি দেসারত কলেজ”, কলকাতার “ফকির চাঁদ কলেজ” সহ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ অন্যান্য কলেজের অনেক ছাত্রছাত্রীও একই অনিশ্চয়তার কথা জানাচ্ছে। তাদের কথায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করে বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা বাড়লে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান করা যেতে পারে। এজন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উদ্যোগী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

Facebook Comments