প্রয়াত পীর আল্লামা এ.কে.এম হায়দার আলীর স্মরণে দোয়ার মজলিস

প্রয়াত পীর আল্লামা এ.কে.এম হায়দার আলীর স্মরণে দোয়ার মজলিস

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গল রিপোর্ট, উত্তর চব্বিশ পরগনা: উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার খড়িবাড়ির আন্দুলিয়া জালালী বাগ দরবার শরীফের পীর আল্লামা একেএম হায়দার আলী সাহেবের দোয়ার মজলিস অনুষ্ঠিত হল।

এদিনের দোয়ার মজলিসের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বক্কার সিদ্দিকী রহমাতুল্লাহ আলাইহির বংশধর পীরজাদা মাওলানা সাহিম উদ্দিন সিদ্দিকী সাহেব। দুয়ার মজলিসের আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুম পীর সাহেবের বড় ছেলে পীরজাদা মাসুম বাখতেয়ারী সহ পীরজাদা হাফেজ মোস্তাক বাখতেয়ারী, পীরজাদা মাওলানা রাকিবুল আজিজ বাখতেয়ারী, পীরজাদা মিরাজুল কাদির বাখতেয়ারী, পীরজাদা মনজুরুল বাখতেয়ারী প্রমূখ।

উল্লেখ্য, ফুরফুরা শরীফের দাদা হুজুর পীর কেবলার অন্যতম খলিফা কানখুলির শাহ জালালী রহঃ এর পৌত্র তথা রাজারহাট নিউটাউনের মাঝেরআইট দরবার শরীফের পীর সাহেব হুজুরের মেজ সাহেবজাদা পীরে কামেল হযরত মাওলানা এ.কে.এম হায়দার আলী রহমাতুল্লাহ আলাইহি গত ১৯ ই আগস্ট কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে পরলোকগমন করেন। আজ মৃত্যুর চতুর্থ দিন পীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মেজো ছেলে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ তথা বিশিষ্ট শিক্ষক নেতা পীরজাদা এ.কে.এম ফারহাদ সাহেবের তত্ত্বাবধানে এই দোয়ার মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।

বহু মানুষের সমাগমে প্রার্থনার মাধ্যমে তাদের চোখের জলে এদিনের এই দোয়ার মজলিস পরিচালিত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে চার দিন আগে এলাকার সকল মানুষের ভালোবাসার পাত্র মরহুম পীর সাহেবের মৃত্যুতে এলাকার শোকের পরিবেশ আজও বিরাজ করছে।

এবিষয়ে পীরজাদা একেএম ফারহাদ সাহেব বলেন আমার আব্বাজান হুজুর পীর কেবলা দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ সমগ্র বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রচুর ভক্ত-মুরিদ, ভালোবাসার মানুষ ছিল। মৃত্যুর দিন থেকেই আজও পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হচ্ছেন একটু দোয়া পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে। তিনি বলেন সকল মানুষের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। বিশেষত আন্দুলিয়া সহ খড়িবাড়ির বিভিন্ন গ্রামের হিন্দু মুসলিম সকল মানুষরা মৃত্যুর দিন থেকে দুরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে পরিষেবা দিয়েছেন তা এক কথায় প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষত আন্দুলিয়া জামে মসজিদের সম্পাদক জনাব ইন্নাস আলি সাহেবের ভূমিকা অনবদ্য রূপ নিয়েছে।

এবিষয়ে এলাকার জনৈক বাসিন্দা মইবুল ইসলাম বলেন যে, পীর আল্লামা একেএম হায়দার আলী সাহেব খড়িবাড়ি এলাকার জ্যোতি ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি তাদেরকে সঠিক পরিষেবা দেওয়ার। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন গ্রামের যুবক ছেলেরা বাতাসা, বিস্কুট, মুড়ি, খেজুর, পানীয় জলের ব্যবস্থা করে মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করেছেন।

Facebook Comments