শহুরে ভীড়ে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে গ্রামের স্কুল পড়ুয়ার তৈরি মূর্তিতে গ্রামেই পুজোর আয়োজন

শহুরে ভীড়ে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে গ্রামের স্কুল পড়ুয়ার তৈরি মূর্তিতে গ্রামেই পুজোর আয়োজন

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-১ নং ব্লকের রঘুসর্দারবাড় জলপাই (শৌলা) গ্রাম। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়া এই গ্রামে শতাধিক মৎস্যজীবী পরিবারের বসবাস। কাঁথি শহর থেকে দশ কিমি দূরের এই প্রান্তিক গ্রামের অধিকাংশ মানুষের সারা বছরের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রে মৎস্য আহরণে কাটে -জীবিকার প্রয়োজনে।

কতিপয় স্কুল পড়ুয়া ও কিছু যুবক গ্রামের বরিষ্ঠ মানুষদের প্রস্তাব দেন, এই করোনা অতিমারিতে লকডাউন কালে শহরের ভিড় এড়াতে গ্রামেই দুর্গা পূজার আয়োজন করতে চাই। গ্রামবাসীদের সহমতের ভিত্তিতে নব কিশলয় সংঘের কচি কাঁচারা গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি সাহায্য চেয়েই এই পূজার আয়োজন করেছে। প্রত্যেকেই সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মূর্তি বানিয়েছে ওই গ্রামেরই ছেলে নয়াপুট হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শিবুরাম নাটুয়া।
শিবুরাম স্কুলে সরস্বতী মূর্তি গড়ে হাত পাকিয়ে ছিল।

প্রতিমা শিল্পী শিবুরামের কথায়,” হেডস্যার আমাকে বিদ্যালয়ে পিঠ চাপড়ে সাহস দিয়ে স্কুলের সরস্বতী মূর্তি গড়তে দিয়েছিলেন, তাই আজ সাহসে ভর করে দুর্গা মূর্তিও গড়ে ফেললাম। “শিবুরাম নাটুয়ার কথায়, “হেডস্যার বলতেন, ‘মানুষ পারেনা এমন কোন কাজ পৃথিবীতেই নেই! যা কিছু দেখছিস, সবই মানুষেরই সৃষ্টি।

‘মহাষষ্ঠীর পুন্যলগ্নে মানুষের ভালোবাসার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের দত্ত্বক নেওয়া এই গ্রামের পূজা উদ্বোধন করেন নয়াপুট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই। মণ্ডপের ফিতে কেটে – প্রদীপ প্রজ্বলন করেন উপস্থিত অতিথিরা। উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান ধনঞ্জয় প্রামাণিক, গ্রামের ছেলে ও মানিক পাড়া হাইস্কুলের শিক্ষক রাজারাম মাঝি, কাঁথি চন্দ্রামনি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্নারানী মন্ডল ঘোড়ই, গ্রামের বরিষ্ঠ নাগরিক লঙ্কেশ্বর মাঝি প্রমুখ।

প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই পূজা উদ্যোক্তা কুড়ি জন যুবকের হাতে কুড়িটি আম্রপালি আমের চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এলাকার সমাজসেবী বাসুদেব মাঝি।

নব কিশলয় সংঘের সম্পাদক খোকন মন্ডল ও সভাপতি অসীম বেরা জানান, “গ্রামের এই পুজোর দিনগুলিতে দূরত্ব বিধি মেনে, মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করে মাত্রই আরাধনার পাশাপাশি মা বোনদের ও শিশুদের বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে।”

Facebook Comments