সাফল্যের মূর্ত প্রতীক রাইহানা খাতুন: পথ দেখালো রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন

সাফল্যের মূর্ত প্রতীক রাইহানা খাতুন: পথ দেখালো রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গল রিপোর্ট, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলার  হরিহরপাড়া ব্লকের মালোপাড়া গ্রামের রাইহানা খাতুন (৩২) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য পরিষেবার সহায়তায় সম্পদ কর্মী তো বটেই – পাশাপাশি পারিবারিক জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে বৃদ্ধ পিতার। ছোট বেলা থেকেই রাইহানা অত্যন্ত্য মেধাবী, আর তাই পারিবারিক অভাব অনটনের মধ্যেও বাবা – মা উৎসাহ দিয়ে গেছে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

পড়াশোনার পাশাপাশি রাইহানার ইচ্ছা ছিল নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। আর এই লক্ষ্যেই নভেম্বর ২০১০ সালে গ্রামের আর ১০-জন মহিলার সাথে গঠন করে “সততা স্বনির্ভর গোষ্ঠী” এবং শুরু করে ক্ষুদ্র সঞ্চয়। গ্রূপ তৈরির কিছু দিন পর ৮০,০০০/- টাকা ব্যাঙ্ক লোন পায় রাইহানার গোষ্ঠী, এখন থেকে ৮০০০/- টাকা ঋণ নিয়ে খুব ছোট আকারে একটি পোশাক তৈরির ইউনিট খোলে নিজের বাড়িতেই। কিন্তু পরবর্তী কালে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পুঁজি দরকার পড়লেও কোনো ভাবেই আর লোণের ব্যবস্থা করতে পারেনি।

ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের মে মাসে স্থানীয় এক সমাজকর্মীর মাধ্যমে রাইহানা জানতে পারে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন পরিষেবাসহ বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের কথা। এরইমধ্যে আনন্দধারা মিশনের মাধ্যমে সংঘ সমবায়ের কোঅর্ডিনেটর পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। রাইহানা সাথে সাথেই আবেদন করে এই পদের জন্য। পাশাপাশি প্রস্তুতি হিসেবে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইনে ফোন করে প্রয়োজনীয় তথ্যের আদানপ্রদান করতে থাকে। ফাউন্ডেশনের রিসোর্স পার্সন রাজকুমার লস্কর কোঅর্ডিনেটর পদের জন্য দক্ষ করে তোলে রাইহানা কে। ফলস্বরূপ জুন ২০১৯ সালে সংঘ কোঅর্ডিনেটর পদে নিযুক্ত হয় রাইহানা এবং তখন থেকেই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করে চলেছে তাঁর দায়িত্ব।

আত্মবিশ্বাসী রাইহানা এরপর রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হোয়াটস্যাপ গ্রূপ এবং ভার্চুয়াল ট্রেনিং গুলিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে থাকে। এখান থেকে ক্রেডিট লিংকেজ সংক্রান্ত বিষয় গুলি রপ্ত করার পর মাইক্রো ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বানিয়ে ৮০০০০/- টাকা লোন লিমিট থেকে ২৫০০০০/- টাকা লোন লিমিট করেন। এখান থেকে নিজের অংশ বাবদ ২৫০০০/- টাকা নিয়ে একটি ১০ -কাঠার  জমি লিজ নেন এবং বাবাকে সবজি চাষের কাজে লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি কিছু টাকা কার্যকরী মূলধন হিসাবে বিনিয়োগ করেন নিজের পোশাক তৈরির ব্যবসায়ে।

দারিদ্রের যাঁতাকল থেকে রাইহানার পরিবার আজ অনেকটাই মুক্ত। নিজের কাজ এবং পারিবারিক কৃষি কাজ থেকে মাসিক ৯০০০/- টাকার মতো আয় হচ্ছে – পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারটি আজ অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ। এজন্য রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই রাইহানা খাতুন। চাষবাস পশুপালন সহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন টোল ফ্রি নাম্বার 1800 419 8800 – এ ফোন করুন সকাল ৯:৩০- সন্ধ্যা ৭:৩০ পর্যন্ত।

Facebook Comments