অমিত শাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কৃষক আন্দোলন আরও জোরদার হতে চলেছে, অবরুদ্ধ রাজধানী

অমিত শাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কৃষক আন্দোলন আরও জোরদার হতে চলেছে, অবরুদ্ধ রাজধানী

বেঙ্গল রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের কৃষক বিরোধী নতুন কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গত তিন দিন ধরেই চলছে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন। দিল্লি রাজধানিতে বৃহস্পতিবার থেকেই কৃষকরা জমায়েত হতে শুরু করে। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আরও তীব্র আকার নিচ্ছে কৃষক আন্দোলন। শুধুমাত্র পঞ্জাব নয়, এবার একে একে দেশের বিভিন্ন রাজ্যগুলি থেকেও কৃষকরা এসে যোগ দিচ্ছেন আন্দোলনে। জানা গিয়েছে, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্য থেকেও দলে দলে কৃষকরা এসে যোগ দিচ্ছেন আন্দোলনে। বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী কমবেশি চার লক্ষ কৃষক সামিল হয়েছেন এই আন্দোলনে। যোগ দিয়েছেন ৭০,০০০ মহিলা কৃষক।

রাজধানী দিল্লি কৃষক আন্দোলনের জেরে প্রায় অবরুদ্ধ। শুক্রবারই দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে পঞ্জাবের কৃষকদের অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কৃষকদের। হরিয়ানার খট্টর সরকারের পুলিশ কৃষকদের রুখতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি কৃষকদের। এরপরই খট্টর প্রশাসন কৃষকদের কার্যত অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। সেইমতো কৃষকরা হরিয়ানা হয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করেন। দিল্লির বুরারি মাঠে কৃষকদের জমায়েত করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপরই শনিবার সকাল থেকে খবর আসতে শুরু করে, নতুন করে পঞ্জাবের ফতেগড় সাহিব থেকে বিপুল সংখ্যায় কৃষকরা দিল্লি সীমান্ত অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। কেন্দ্রের মোদি সরকারের কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বুরারি মাঠেই জমায়েত হচ্ছেন কৃষকরা। সেখানে ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। কৃষকদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সরকার তাঁদের বক্তব্য শুনছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা এই প্রতিবাদস্থল ছাড়বেন না।

এ দিকে বুরারি ময়দানে উপস্থিত হয়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষক দলটি ঘোষণা করে দিয়েছে, অন্যান্য রাজ্যগুলি থেকেও কৃষকরা আসছেন। এই ঘোষণা শুনে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন সেখানে উপস্থিত কৃষকরা। আরও জানা গিয়েছে যে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের কৃষকরাও দিল্লি সীমান্তে জমায়েত করতে শুরু করেছেন। জমায়েত বিপুল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

গতকাল কেন্দ্রের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, কৃষকরা যদি সরকার নির্ধারিত দিল্লির বুরারীর নিরঙ্কারী সমাগম গ্রাউন্ডে তাঁদের বিক্ষোভ স্থানান্তর করে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সরকার তাদের সমস‍্যা সমাধানের জন্য আলোচনায় বসবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে আজ সকালে আলোচনায় বসেন কৃষকরা। বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাব ‘শর্ত সাপেক্ষ’। পরই কৃষকরা সরকারের প্রস্তাব প্রত‍্যাখান করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

Facebook Comments