প্রাচীন শ্যামসুন্দর মন্দিরের সংস্কার

প্রাচীন শ্যামসুন্দর মন্দিরের সংস্কার

তন্ময় চৌধুরী, বেঙ্গল রিপোর্ট, বাঁকুড়া: প্রাচীন মন্দিরের চতুর্থ সংস্কার ও নতুন করে সেজে উঠল বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লকের ব্রজরাজপুরের শ্যামসুন্দর মন্দির। প্রায় ৩৭৫ বছরের প্রাচীন শ্যামসুন্দর মন্দিরটি।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লকডাউনের কারণে এমনিতেই মন্দিরে ভক্ত সমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সকল প্রকার অনুষ্ঠান বন্ধ রেখেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। আর এই সময়কে কাজে লাগিয়েই মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় মন্দির সংস্কারের। প্রভু শ্যামসুন্দর, রাধারানী ও ললিতার বিগ্রহ মূল মন্দির লাগোয়া দুর্গা মন্দিরে স্থানান্তরিত করে শুরু হয়েছিল শ্যামসুন্দর মন্দির সংস্কারের কাজ। প্রায় তিন মাস ধরে প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শিল্পী ও কারিগরদের নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন রূপে সেজে ওঠে মন্দির। সংস্কারকার্যের মূল কারিগর ছিলেন খাতড়ার শিল্পী চন্দন রায়।

সংস্কারকার্য সম্পূর্ন হওয়ার পর সোমবার পুণ্য উল্টো রথ তিথিতে সমস্ত কোভিড বিধি মেনে পুজো, যজ্ঞ সহ এক সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মন্দিরে পুনরায় নিয়ে আসা হয় বিগ্রহ গুলো।
প্রভু শ্যামসুন্দরের পুনর্গমন অনুষ্ঠান দেখতে আসেন গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বহু মানুষ। কোভিড বিধি মেনে নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠান দেখার সুব্যবস্থা করেন সকল গ্রামবাসী ও শ্যামসুন্দর সেবা সমিতির সদস্যরা। ব্রজরাজপুর শ্যামসুন্দর সেবা সমিতির সম্পাদক চণ্ডীদাস গোস্বামী জানান, ” নানা দিক থেকেই নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এলাকার ঐতিহ্যবাহী শতাব্দীপ্রাচীন এই শ্যামসুন্দরের মন্দির, যেহেতু লকডাউনে মন্দিরে ভক্ত সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, তাই এই সময়টিকেই আমরা মন্দির সংস্কারের উপযুক্ত সময় হিসাবে বেছে নিই। আজ প্রায় তিন মাস পর মন্দিরের পূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় এই উল্টা রথের দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয় প্রভুর পুনরাগমনের দিন হিসাবে “। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে গ্রামের আশীষ চ্যাটার্জী জানান, খুব ভাল করেছেন শিল্পী চন্দন রায় ও তাঁর মোনালিসা আর্টের অন্যান্য শিল্পীরা।

Facebook Comments