বিনা অস্ত্রে করোনা যুদ্ধে অবতীর্ণ আশা কর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বাম নেতার

বিনা অস্ত্রে করোনা যুদ্ধে অবতীর্ণ আশা কর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বাম নেতার

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: সারা দেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গে ও করোনা সংক্রমণ তুঙ্গে। গতকাল সারা দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৫৭,০০০ জন। পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৯৮ জন।ডাক্তার, নার্স, পুলিশ ও প্রশাসনের সবাই মিলে কোভিড যুদ্ধে অবতীর্ণ। কোভিড যুদ্ধে অনেকেই পরাজিত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন তবুও কোভিড লড়াই থেমে নেই।

আর এই লড়াইয়ে সব থেকে উপেক্ষিত হয়ে আছেন আশা কর্মীরা। সকাল ৮ টা থেকে আশাকর্মীরা বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়ান। কোন কোন পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ী ফিরেছেন তার তালিকা তৈরী করছেন। কাদের জ্বর হয়েছে আবার কাদের করোনা উপসর্গ আছে সবই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব আশা কর্মীদের। উপসর্গ থাকলে কি করতে হবে আর উপসর্গ না থাকলে কি করতে হবে সব পরামর্শ দেন আশা কর্মীরা। সারাদিন বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয় আশা কর্মীদের। করোনা সংক্রমণের ভয়কে পায়ের ভৃত্য করে তাঁদের কাজ করতে হয়। অথচ ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার অবস্থা আশা কর্মীদের। অনেকের মাস্ক নেই মুখ ঢাকছেন রুমালে বা দোপাট্টায়। পিপিই’র তো বালাই নেই কোন স্যানিটাইজারেরও পর্যাপ্ত সরকারী সরবরাহ পর্যন্ত নেই। নিয়মিত আশা কর্মীদের টেস্টিং -এর সুযোগ নেই। সামান্য ভাতাই আশা কর্মীদের গ্রাসাচ্ছদনের ভরসা। ওভারটাইমের কোন সংস্থান নেই। অথচ আশা কর্মীরাই গ্রামে গ্রামে আসল কোভিড যোদ্ধা।

এবিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপি আইএম এর প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা দপ্তরের অধিকর্তা কে ই-মেইল পাঠিয়ে আশা কর্মীদের পিপিই, মাস্ক স্যানিটাইজার, নিয়মিত টেস্টিং, ভাতা বৃদ্ধি, ওভারটাইম ও ৫০ লক্ষ টাকা করোনা জীবনবীমার আওতাভূক্ত করা ইত্যাদি দাবীপূরণের আবেদন জানিয়েছেন। মামুদ হোসেন আর‌ও বলেন, “আশা কর্মীদের গুরুত্ব না দিলে গ্রামে গ্রামে কোভিড যুদ্ধ দুর্বল হয়ে পড়বে।”

Facebook Comments