এ তো সবে ‘ট্রেলার’ দেখানো হল, পুরো ‘সিনেমা’ ২৬ জানুয়ারি! হুঁশিয়ারি কৃষকদের

এ তো সবে ‘ট্রেলার’ দেখানো হল, পুরো ‘সিনেমা’ ২৬ জানুয়ারি! হুঁশিয়ারি কৃষকদের

ডিজিটাল ডেস্ক, বেঙ্গল রিপোর্ট: এ তো সবে ‘ট্রেলার। পুরো সিনেমা তো এখনও বাকি আছে। দেখানো হবে ২৬ জানুয়ারি’। বৃহস্পতিবার ট্রাক্টর মিছিল করে এভাবেই কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষকরা।বুধবারই কৃষক ধরনা সংক্রান্ত মামলার শুনানির শুরুতেই নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান প্রধান বিচারপতি এস এ বোবড়ে৷ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপালকে বলেন, ‘কৃষক বিক্ষোভের পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি৷’ প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালাচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে পুরো সমস্যার সন্তোষজনক সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি অ্যাটর্নির অভিমত জানার পরে শীর্ষ আদালত জানায় কৃষক আন্দোলন সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার শুনানি করা হবে আগামী সোমবার৷

এর মাঝে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত কৃষকদের আলোচনায় যদি কোনও বিষয়ে অগ্রগতি হয়, তা হলে প্রয়োজনে আগামী সোমবারের শুনানি আরও পিছিয়ে দেওয়া হবে, জানায় শীর্ষ আদালত৷ এই প্রসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তৈরি কৃষি আইনগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানানো নতুন মামলাগুলিকেও একত্রিত করা হয়৷

 

দেশের শীর্ষ আদালত যখন কৃষি আইনের বিরোধিতায় চলতে থাকা কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, ঠিক তখনই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে কৃষক সংগঠনগুলি৷ সামনেই দেশের সাধারণ বাজেট৷ এই বাজেট পেশ করার লক্ষ্যে আয়োজিত হবে সংসদের অধিবেশন, যা শুরুর কথা রয়েছে ২৯ জানুয়ারি থেকে৷ এই অধিবেশন শুরুর সময়ে গোটা দেশের চোখ থাকবে দেশের রাজধানীর প্রতি৷ এই সময়ে যে কোনও উপায়ে কৃষক আন্দোলনকে রাজধানী দিল্লিতে ছড়িয়ে দিতে পারলে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে মারাত্মক চাপ তৈরি করা যাবে বুঝেই কৃষক নেতারা চিন্তা করছেন বিকল্প পন্থার৷ এই প্রসঙ্গে প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে দেওয়া অপ্রত্যক্ষ সমর্থন ব্যবহার করার কথাও ভাবছেন কৃষক নেতারা৷

ঘটনা হল, কৃষকরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের প্রাথমিক রূপরেখা জানিয়ে দিয়েছেন, যেখানে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের রাজধানী দিল্লিতে ১০,০০০ বেশি ট্র্যাক্টরের সমন্বয়ে র‍্যালির আয়োজনের কথা বলা হয়েছে৷ এখন এই কৃষক নেতারা ভাবছেন ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায় তার কথা৷ এর অর্থ সরকার তাঁদের দাবি মানবে না ধরে নিয়েই কী তাঁরা তৈরি হচ্ছেন আরও দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য? বুধবার নয়াদিল্লিতে ওই কৃষক নেতা বলেন, ‘যত দিন না কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে৷ এর অন্যথা হবে না৷’

Facebook Comments