বাবরি মসজিদের রায় বিশ্বের দরবারে প্রমাণ করেছে ভারতে ন্যায়বিচার নেই: মাহমুদ মাদানী

বাবরি মসজিদের রায় বিশ্বের দরবারে প্রমাণ করেছে ভারতে ন্যায়বিচার নেই: মাহমুদ মাদানী

বেঙ্গল রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদকে শহীদ করে দেয় বিজেপি আরএসএস দাঙ্গাবাজ নেতারা। ওই মামলার মূল ইন্দনদাতা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আদালতের বেকসুর খালাস দেওয়ার ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব থেকে প্রতিবাদ উঠে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

তিনি বলেন, বাবরী মসজিদে হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া অপরাধীদেরকে আরও উৎসাহ যোগাবে এবং সংখ্যালঘুদের মনে শঙ্কা ও আদালতের প্রতি তাদের অনাস্থা তৈরি করবে। এই রায়ে বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে, ভারতে ন্যায়বিচার নেই।

মাহমুদ মাদানী বলেন, সিবিআই আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে এবং দেশের সাধারণ স্বার্থ এবং ন্যায়বিচারের নীতিমালা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হবে তার ক্ষতিপূরণও চাওয়া হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পরে বিশেষ সিবিআই আদালত বাবরী মসজিদে হামলায় জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় না এনে আশ্চর্যজনকভাবে খালাস করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত করুণ এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আদালতের এই রায়ে যেভাবে প্রমাণ ও সত্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং দোষীদের লজ্জাজনক ও অপরাধমূলক কর্ম প্রকাশ্যে আসার পরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে, এর নজির আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই না।

উল্লেখ্য, সিবিআই-এর বিশেষ আদালত ২৮ বছর আগে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বেকসুর খালাস দিয়েছে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, উমা ভারতী-সহ অভিযুক্তদের। লখনউ-এর বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারকের রায়, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। গোটাটাই ‘হঠাৎ ঘটে যাওয়া’ স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ফল। ঘটনায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ছিল ৪৯। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩২ জনের সে দিনের ভূমিকায় কোনও অপরাধ খুঁজে পায়নি আদালত। উল্টে ভাঙচুরের ঘটনা এঁরা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও বলা হয়েছে রায়ে।

এদিকে সিবিআই আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে যাচ্ছে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ড। মীম সুপ্রিমো আসাদুদ্দিন ওয়েসীও রায় নিয়ে ‘ক্ষোভ’ জানিয়েছেন। এদিকে সারা দেশের মুসলিম নেতাদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নেতারাও রায় নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়।

Facebook Comments