বীরভুমের তাঁতিরা চরম হতাশায় ভুগছেন লকডাউনে

বীরভুমের তাঁতিরা চরম হতাশায় ভুগছেন লকডাউনে

অমলেন্দু মন্ডল, বেঙ্গল রিপোর্ট, বীরভূম: করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে সচেতনতা অবলম্বন করতে এক মাসের ও অধিক চলছে লক ডাউন, পাথর শিল্পে যেমন কয়েক হাজার শ্রমিক প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তেমনি বীরভুমের রামপুরহাট মহকুমার বশোয়া, বিষ্ণুপুর থেকে তেজহাটি কুরুমগ্রামের তাতিরা পরেছেন বিপাকে। এই গ্রামগুলোতে বেশির ভাগ মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করে মূলতো তাঁত বুনেই।লক ডাউন শুরু হওয়াতে কলকাতার মহজনরা আর তাদের কাপড় কিনতে ইচ্ছুক নন বা উপাই ও নেই পাঠানোর, কাঁচা মাল ও আসছে না গাড়ী বন্ধো থাকার জন্য, এমনটাই বক্তব্য তাঁতি পরেশ নাথ দাসের। বসোয়া গ্রামের আরেক তাঁতি মহোন দাস জানান, তাঁত বুনেই আমরা বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছি বাজার মন্দা হয়েছে কখনো কখনো, হয়তো পেটের দায়ে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে ক্রাসার খাদানে, কিন্তু এমন বিপর্যয় কখনো আসেনি।

কিছু শাড়ী তৈরি হয়ে আছে কেনার লোক নেই, তৈরি আরো করে রাখতে পারলে হয়তো পুজোর মার্কেটে কিছু আমদানী হতো কিন্তু কাঁচা মাল আসছে না, কলকাতার মহাজন রা ও অগ্রীম কোন টাকা দিকে চাইছে না। এখন প্রতিদিন সংসার চালাতে এর ওর সাহায্য নিতে হচ্ছে কাউকে কাউকে দানের চাল ডাল আলু ও নিতে হচ্ছে। লক ডাউন কবে খুলবে কিছুই বুঝতে পারছি না। একই অবস্থা জেলার রাজনগর তাঁতিপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার তাঁতিদের। তাঁতের সুতোর মতোই তারা হতাশা আর নিরশার সুতো বুনছেন আগামীর দুঃচিন্তায়। সরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ার ক্ষোভ ও প্রকাশ করেছেন তাঁতিরা।

রামপুরহাট বস্ত্র ব্যাবসায়ী আনন্দ আগারওয়াল জানান, আমরাও বসোয়া বিষ্ণুপুরের তাঁতের শাড়ী বিক্রি করি, এখন থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখতাম প্রতি বছর পুজোর জন্য কিন্তু এ বছর সাহস করে অর্ডার দিতে পারছিনা কবে লক ডাউন স্বাভাবিক হবে? কবে দোকান খুলতে পারবো সেই হতাশায় আমরাও ভুগছি, হোলসেলার আমি এমনিতেই প্রচুর মাল স্টকে রয়েছে যা কোথাও পাঠাতে পারছিনা যানবাহন বন্ধের কাড়নে প্রচুর কর্মী কে বেতন দিতে হচ্ছে বসে বসে, তার পর আর পুজো জন্য তাঁতের শাড়ি র অর্ডার দেওয়ার সাহস হচ্ছে না। হাঁসন বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক মিলটন রশিদ জানান এই সব তাঁতিদের তাঁতের শাড়ি শুধু ভারতে নয় ভারতের বাইরে ও সমৃদ্ধ, আমার এলাকায় অনেক তাঁতী আছেন তাদের ব্যাক্তিগত সাহায্য সহযোগিতা অবশ্যই করবো তবে, রাজ্য সরকারের উচিৎ তাঁতিদের সাহায্য করা।

Facebook Comments