করোনা আবহে এবারের বেড়া পরব: মন ভাল নেই বীরভূমের বেড়া শিল্পী ও বাসিন্দাদের

করোনা আবহে এবারের বেড়া পরব: মন ভাল নেই বীরভূমের বেড়া শিল্পী ও বাসিন্দাদের

মহঃ সফিউল আলম, বেঙ্গল রিপোর্ট, বীরভূম: প্রতি বছর বীরভূম জেলার বিভিন্ন ব্লকের একাধিক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামে মুসলিম পরিবারগুলিতে বেড়া পরব উদযাপন করা হয় সাবেকি নিয়ম মেনে৷ নিষ্ঠা ও আগ্রহের অভাব থাকেনা৷ কম বয়সী ছেলে মেয়েদের তথা শিশুদের মধ্যে উৎসাহ থাকে যথেষ্ট৷ কিন্তু এবার করোনা আবহে ভাদ্র মাসের এই পরবে সাবেকি চিত্রটাই পাল্টে গিয়েছে অনেকখানি৷ ফলে মন ভাল নেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বেড়া শিল্পী ও উৎসব পালনকারী মানুষদের৷

বেড়া পরবকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই ভাদ্র মাস জুড়ে উৎসবের চেহারা নেয় গ্রাম বাংলা এবং একই সাথে জেলার অসংখ্য গ্রাম৷ সংখ্যালঘু অনেক মুসলিম পরিবারে এই পরব পালন করা হয় নিষ্ঠা সহকারে৷ বীরভূমের সিউড়ি, দুবরাজপুর, খয়রাশোল, রাজনগর, মহঃবাজার, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, বোলপুর সহ বিভিন্ন প্রান্তে এমন চিত্র চোখে পড়ে৷ জেলার প্রাচীন ঐতিহাসিক কেন্দ্র রাজনগরের বেড়া পরবের প্রচলন শুরু হয় রাজাদের হাত ধরে সুদূর অতীতে৷ উৎসব পালনকারীদের কয়েকজন জানান, জলের পীরকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে তাঁদের এই বেড়া পরব৷ বেড়া শিল্পীদের তৈরি এই বেড়া কিনে নিয়ে যান তাঁরা নিজেদের বাড়িতে৷ তাতে চিরাগ অর্থাৎ প্রদীপ, সিন্নি প্রভৃতি রেখে কাছাকাছি পুকুর, ডোবা, নদী বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়৷ অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস, বেড়া পরব পালন করা হলে ছোট ছেলে মেয়েদের জলাশয়ে ডুবে বড় ধরণের কোনো বিপদ বা দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে৷ প্রচলিত রীতি রেওয়াজ মেনে বংশ পরম্পরায় আজও তাঁরা তা মেনে চলেছেন বলে জানান বাসিন্দারা৷

তবে এবারের পরব করোনা আবহের কারণে অন্যান্য বছরের মতো তেমন জমে ওঠেনি৷ ফলে মাথায় হাত শিল্পীদের৷ উৎসব পালনকারীরাও এবার তেমনটা উৎসাহী আগ্রহী নন৷ কোনো প্রকারে গ্রামগুলিতে সাবেকি এই পরব পালন করা হচ্ছে নিয়ম রক্ষার তাগিদে৷ তবে আগামী বার হয়তো সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা বাসিন্দাদের৷ আপাতত সেদিকেই চেয়ে রয়েছেন তাঁরা৷

Facebook Comments