রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য পরিষেবায় আজ চিন্ময় ঘোষ সফল কুল ব্যবসায়ী

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য পরিষেবায় আজ চিন্ময় ঘোষ সফল কুল ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম কৃষি অধুষ্যিত জেলা। রাজ্যের অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও এখানে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে আসে। এই জেলার পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মোয়াইল গ্রামের বাসিন্দা কৃষিজীবী চিন্ময় ঘোষ। পরিবারে শুধু মা ও বাবা আছে।

মূলতঃ পারিবারিক কৃষি জমিতে সবজি এবং কুল চাষই চিন্ময় বাবুর মূল জীবিকা। সবজি থেকে ভালো ফলন হলেও কুলের ফলন খুবই সামান্য ছিল, কারণ সাবেকি পদ্ধতিতে উৎপাদন এবং পোকার আক্রমণ। ০.৩৩ একর জমিতে কুল চাষ করার খরচ হতো প্রায় ২২,০০০/- টাকা এবং বিক্রির পরিমান মাত্র প্রায় ৫০,০০০/- টাকার মতো – যা শ্রম এবং পুঁজি বিনিয়োগের তুলনায় যথেষ্টই কম।

ঘটনাচক্রে সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এই গ্রামে একটি সচেতনতা  শিবির করে এবং ফাউন্ডেশনের জীবন-জীবিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ পরিষেবার কথা আলোচনা হয়। প্রথমে কিছুটা ইতস্ততঃ করলেও কিছুদিন পর চিন্ময় বাবু হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে কুল চাষের সমস্যা জানান এবং পাশাপাশি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ এ গাছের ফটো পোস্ট করেন। এরপর নিয়মিতভাবে চলতে থাকে ফাউন্ডেশনের কৃষি বিশেষজ্ঞ এর সাথে তথ্য আদানপ্রদান। চিন্ময় বাবু কুল চাষের জন্য সঠিক পদ্ধতিগত বিষয়গুলি জেনে নেওয়ার পাশাপাশি সার ও সঠিক সময় সঠিক মাত্রায় অসুধের ব্যবহার পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জেনে চাষ করার ফলে ২০২১ মরশুমে ০.৩৩ একর জমিতে উৎপাদন খরচ কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৮,০০০/- টাকার মতো এবং বিক্রির পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৫,০০০/- টাকা। অনুপ্রাণিত চিন্ময় বাবু এর পর বাণিজ্যিকভাবে ১.৩৩ একর জমিতেই প্রায় ৭২০০০/- টাকা বিনিয়োগ করে গত মরশুমে কুল চাষ করেন এবং বিক্রির পরিমান ২,৬০,০০০/- টাকা। খরচপাতি বাদ দিয়ে নিট মুনাফা প্রায় ১,৯৮,০০০/- টাকা।   রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পরামর্শ পেয়ে তিনি প্রায় ৭৬০০০ টাকা বাড়তি লাভ করেছেন।

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনকে হার্দিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে চিন্ময় বাবু বলেন” রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন -এর অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সু-পরামর্শ এবং টিম রিলায়েন্স – এর পরিষেবা সঠিক অর্থেই কৃষকের রোডম্যাপ এর দিশা দেখায়। আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর জন্যই আমি সাধারণ সবজি চাষী থেকে সফল কুল ব্যবসায়ী  হতে পেরেছি। “এভাবেই গ্রাম বাংলার অগণিত কৃষক ভাইদের কাছে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পৌঁছে গিয়ে দেখাচ্ছে জীবন-জীবিকার উত্তরণের পথ।

Facebook Comments