ওয়াকফ সম্পদ উদ্ধার করেনি তৃণমূল সরকার, সংখ্যালঘু দপ্তরটিও নিজের হাতে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিযোগ ড: নুরুল ইসলামের

ওয়াকফ সম্পদ উদ্ধার করেনি তৃণমূল সরকার, সংখ্যালঘু দপ্তরটিও নিজের হাতে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিযোগ ড: নুরুল ইসলামের

বেঙ্গল রিপোর্ট ডেস্ক রিপোর্ট: ওয়াকফ সম্পদ থেকে সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়ন, সব কিছুতেই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি ড: নুরুল ইসলাম। বামফ্রন্ট জামানার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু মুসলিমরা কতটা লাভবান হয়েছেন, সাচার কমিটির রিপোর্ট, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ কতটা কার্যকর হয়েছে তার হিসাব কষছে মুসলিম সমাজ। বামফ্রন্ট জামানার বঞ্চনার কি অবসান হয়েছে নাকি সেই হজ হাউজ, আলিয়া, সম্প্রীতি কে উন্নয়ন বলা হচ্ছে তাও দেখা হচ্ছে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। ওই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন বৈচিত্র্যময়। তিনি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী। সক্রিয় রাজনীতি তাঁর আজীবন পেশা। বামফ্রন্টের সক্রিয় বিরোধিতা করে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য।

বামফ্রন্টের তথাকথিত কট্টর ধর্মনিরপেক্ষতার সাম্প্রদায়িক শাসনে মুসলিম সম্প্রদায় যখন বীতশ্রদ্ধ, তখন মমতা তাদের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে প্রজ্বলিত করে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যক্ষ আবেদন করে বলেছিলেন, তারা যদি তাদের আশির্বাদের হাত তাঁর মাথার উপর রাখে, তাহলে তিনি তাদের বঞ্চনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ন্যায্য অধিকার পাইয়ে দিবেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম বর্ষে তিনি দাবি করেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতির নব্বই শতাংশ কাজ তিনি করে দিয়েছেন। বস্তুত পরবর্তী নয় বছরে উগ্র মুসলিম বিরোধী শক্তির কথিত ‘মুসলিম তোষণ’ এর অভিযোগ খন্ডন ও অপনোদন করতে তিনি সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোস করে চলেছেন। বিজেপির আগ্রাসী হিন্দুত্বের মোকাবেলায় নরম হিন্দুত্বের নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় থেকেছেন। আজ তাঁর দশ বছরের শাসন কালে মুসলিম সম্প্রদায় কি পেয়েছে তা মূল্যায়ন করা জরুরি।”

ড: নুরুল ইসলাম জানান,” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মুসলিম সম্প্রদায়ের আশির্বাদের প্রতিদান•

১. আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নির্মাণ

২. হজ্জ হাউস নির্মাণ

৩. ইমাম ভাতা প্রদান

৪. সংরক্ষণ

ইমাম ভাতা ছাড়া অবশিষ্ট তিনটি কাজ বামফ্রন্টের মুমুর্ষ কালের কর্মসূচির এক্সটেনশন মাত্র•

ক. ইমাম ভাতা ঘোষণা ও তার ঢক্কানিনাদ তার রাজনৈতিক অদূরদর্শী ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। এই ঘোষণা না মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো কল্যান করেছে না তার রাজনৈতিক সাফল্যে কোনো কাজে লেগেছে।

খ. সংরক্ষণ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান রূপে স্বীকৃত হতো, যদি তিনি আন্তরিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতেন। সংরক্ষণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অভিশাপ হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো মুসলিম প্রধান জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান দেখে নিন। ছল চাতুরীর একটা সীমা থাকা উচিত! এসব জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ও বি সি – এ কোটার বাইরে চাকরি দেওয়া হয়নি। এই সরকার একবার ভেবে দেখেছে যে সব মুসলিম সংরক্ষণের আওতাধীন নয় তাদের ছেলেমেয়েদের যতই মেধা থাক তাদের কোনো চাকরি নেই। গত কয়েক বছর ধরে অসংরক্ষিত আসনে মুসলিমদের চাকরি হচ্ছে না। অলিখিত নিষেধাজ্ঞা!

গ. বামফ্রন্টের প্রতি মুসলিমদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ওয়াকফ সম্পদের অপব্যবহার ও দূর্নীতি। এই সম্পদ উদ্ধার ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নের কাজে লাগানোর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাঁর সরকার এবিষয়ে কিচ্ছু করেনি।

ঘ. মমতা স্বয়ং বলেছিলেন, তিনি ১০০০০ মাদ্রাসা সরকারি স্বীকৃতি দিবেন। যদি ১০০ টি দিতেন? বরং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার তুলনায় নদিয়া ও বীরভূম ছোট্ট। কিন্তু সেখানে না চাইতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে, আর মুর্শিদাবাদ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় পায়নি।

ঙ. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় নামে একটি দপ্তর আছে। এই দপ্তর মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে এত লোভনীয় কেন জানি না! দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রী এই দপ্তর নিজের কাছে রেখে কি করতে চেয়েছেন তা বোধ হয় আপামর মুসলিম জনতা বুঝে গেছে।

চ. মমতা সরকার অশিক্ষিত ও বক ধার্মিক মুসলিমদের মুসলিম প্রতিনিধি রূপে কেন প্রজেক্ট করে, সে বিষয়ে মুসলিম জনতা বেশ সন্ধিহান।

এত কিছুর পরেও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনতা এই মুহূর্তে মমতার বিকল্প নেই বলে মনে করে। যেমন তারা এক সময় বামফ্রন্টের বিকল্প নেই বলে দীর্ঘদিন সমর্থন করে গেছে।”

Facebook Comments