দুমাস পরেও পটাশপুর জলের নিচে, ৫৪ টি বানভাসি পরিবার আজও যাযাবরের দিন কাটাচ্ছেন

দুমাস পরেও পটাশপুর জলের নিচে, ৫৪ টি বানভাসি পরিবার আজও যাযাবরের দিন কাটাচ্ছেন

সুব্রত গুহ, বেঙ্গল রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর-১ ব্লকের তালচিটকিনী মৌজার বানভাসি প্রায় ৫০ টি পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে আত্মীয়সজন, ত্রাণ শিবির ও বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়ে যাযাবরের জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। গত ১৭ ই সেপ্টেম্বর কেলেঘাই নদীর বাঁধ ভাঙনের ফলশ্রুতিতে এই সব পরিবারের ভিটেমাটি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পড়ুয়াদের বইপত্র, আসবাবপত্র, ধানচাল, ঘরবাড়ি সব প্রবল স্রোতের টানে ভেসে চলে যায়। বাস্তু ও জমি জলের তোড়ে পুকুরে পরিণত হয়ে পড়েছে। তাই সর্বত্র জমাজল নেমে যাওয়ায় বানভাসি মানুষজন বাড়ী ফিরে অস্থায়ী শিবির নির্মাণ করেও বাস্তুভিটায় ফিরে গেছেন বা যাচ্ছেন। স্কুল- কলেজ খুলে যাওয়ায় পড়ুয়ারা শিক্ষাঙ্গনে আবার ফিরে আসছে। কিন্তু তালচিটকিনী মৌজার ৫৪ টি পরিবারের বাড়ী ফিরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। সবকিছুই পুকুর ও জলাশয়ের রূপ নিয়েছে।

তালচিটকিনী মৌজার হরিপদ ভূঞ্যা, গৌতম ভূঞ্যা, শুকদেব জানা, ভক্তিপদ মূলা, নকুল ধাড়া, সুকুমার পাইক, কালীপদ মাইতি, জগন্নাথ গুচ্ছাইত, শ্রীকান্ত হাজরা প্রমুখের ৫৪ টি পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে সর্বহারায় রূপান্তরিত হয়েছেন। তাঁদের পরিবারের পড়ুয়ারা তালছিটকিনী অঞ্চল হাইস্কুলেও পড়তে যেতে পারছে না। তাঁদের পুনর্বাসনের দাবী নিয়ে স্থানীয় বিধায়ক ‘উত্তম বারিক’ রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী পুলক রায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন।

প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী অখিল গিরি, জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক( মাধ্যমিক) প্রমুখের কে জরুরী বার্তা পাঠিয়ে তালছিটকিনী মৌজার ৫৪ টি পরিবারের বিকল্প আবাসন, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সহ পরিচয়পত্রের পুনরায় ইস্যু করা,পড়ুয়াদের শিক্ষাঙ্গনে আবার ফিরে যাওয়ার জন্য বইপত্র, শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা ইত্যাদি পুনর্বাসনের লক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

Facebook Comments