কে এই সাংবাদিক সেখ সফিকুল ইসলাম? কেন বন্ধ হল আরামবাগ টিভি, বিস্তারিত জানুন

কে এই সাংবাদিক সেখ সফিকুল ইসলাম? কেন বন্ধ হল আরামবাগ টিভি, বিস্তারিত জানুন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেঙ্গল রিপোর্ট: সেখ সফিকুল ইসলামের জন্ম হুগলির আরামবাগের শীতলপুর গ্রামে। ১৯৮০ সালের ২রা ডিসেম্বর জন্ম। গ্রামের স্কুলে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কলকাতায় গিয়ে কেমিস্ট্রি অনার্স পাশ করেই মিডিয়ার কাজে যুক্ত হয়ে যান। 21 বছর বয়সে কলকাতার ‘বাংলা এখন’ চ্যানেলে চাকরিতে যুক্ত হন। যে চ্যানেলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন অভিজিৎ দাশগুপ্ত। অভিজিত দাশগুপ্ত একটা সময় দূরদর্শনের স্টেশন ডিরেক্টর ছিলেন। যার হাতে তৈরি হয়েছিল বাংলার প্রথম বেসরকারি নিউজ বুলেটিন ‘খাস খবর’। পরবর্তীকালে তিনি ‘খবর এখন’ নামে একটি পৃথক নিউজ বুলেটিন তৈরি করেন। যেটি চলত ‘বাংলা এখন’ চ্যানেলে। সেই চ্যানেলটিও তিনি তৈরি করেছিলেন। সেখ সফিকুল ইসলাম ওই চ্যানেলে যুক্ত হন ২০০২ সালে। প্রথমদিকে প্রোডাকশনের দায়িত্বে ছিলেন সফিকুল ইসলাম। যখন স্টার আনন্দ(এখন এবিপি আনন্দ), 24 ঘন্টা, কলকাতা টিভির মতো বড় বড় চ্যানেল চলে এলো, সেই সময় এই চ্যানেলের খবর এর দায়িত্বে থাকা প্রায় সকলেই চলে গেলেন ওই সব চ্যানেলে। ফাঁকা হয়ে গেল অফিস। সেই সময় প্রোডাকশন থেকে সাংবাদিকতার কাজে লাগানো হলো সফিকুল ইসলামকে। দু তিনটে নিউজ কাভারেজ করার পরই অভিজিত দাশগুপ্ত এর নজরে এসে গেলেন সফিকুল ইসলাম। তাকে সাংবাদিকতার কাজেই বেশি বেশি করে লাগানো শুরু করলেন। তারপর চ্যানেল টেন যুক্ত হন। চ্যানেল টেন এ কয়েকটি স্টিং অপারেশন করে কলকাতার প্রথম সারির  টিভি মিডিয়ার সিনিয়র রিপোর্টারের তকমা পান।

সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কলকাতা টিভিতে যুক্ত হন। সেখানেও একগুচ্ছ এসক্লুসিভ খবর করে সকলের নজর কাড়েন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যখন কমিশনার ছিলেন মিরা পান্ডে, সেই সময় ইলেকশন কভারেজএ বিরাট ভাবে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, জঙ্গলমহল, সিকিমে ভূমিকম্প এর মতো  বড় ইভেন্ট কাভার করেছেন। প্রথম থেকেই একজন ডেয়ারডেভিল রিপোর্টার হিসেবে তাকে দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক খবর করেছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ফিরে এসেছেন কয়েকবার। তবু সাংবাদিকতা তার নেশা। কলকাতা টিভি তে চাকরি করতে করতে তার স্ত্রীকে দিয়ে আরামবাগের খানাকুল এলাকাতে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা চালু করেন ‘খানাকুল বার্তা’। তারপর হাওড়ায় আমতা বার্তা, আরামবাগে ‘পৌর বার্তা’ চালু করেন। তারপর হঠাৎই মনে করেন যে নিজে একটা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হাউস করবেন। তাই চাকরি ছেড়ে দেন। শুরু করেন আরামবাগ টিভি। এজন্য সপরিবারে কলকাতা থেকে আরামবাগের চলে আসেন তিনি। ২০১৬ সালে শুরু আরামবাগ টিভির পথ চলা। আরামবাগ মহাকুমা ভিত্তিক এই চ্যানেলের চ্যানেলের এডিটর হন তিনি। প্রথমদিকে শুধু কেবল চ্যানেল ছিল এটি।

পরে ইউটিউব চ্যানেল হয়। দ্রুত বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। প্রশাসন ও শাসক দলের সঙ্গে কোনো আপস না করে খবর চালানোতে বার বার তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল। বছর দুই আগে তাকে 12 দিন জেল বন্দি থাকতে হয়েছিল। তার পরেও আপোষ করেননি তিনি। ফের নেমে এলো শাসক দল ও প্রশাসনের নির্যাতন। তাতেও পিছপা হচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু গত ০৫.০৫.২০ রাত দেড়টার সময় তাদের বাড়ি ঘিরে যে হামলার চেষ্টা হয়, তার ভয়ঙ্কর পরিণতির আশঙ্কায় তার স্ত্রী আলিমা খাতুন নিজে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেন। বলেন আমার দুই ছোট ছোট বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য আমার এ সিদ্ধান্ত। সেখ সফিকুল ইসলাম এই মুহূর্তে কোথায় কারো জানা নেই। তার স্ত্রীও বলতে পারছেন না।

Facebook Comments