বাংলার সংখ্যালঘু সমাজের নারীরা বঞ্চনা- বৈষম্যের শিকার: বিধায়ক ন‌ওসাদ সিদ্দিকী

বাংলার সংখ্যালঘু সমাজের নারীরা বঞ্চনা- বৈষম্যের শিকার: বিধায়ক ন‌ওসাদ সিদ্দিকী

আরিফুল ইসলাম, বেঙ্গল রিপোর্ট, হুগলী: হিজাব পরার জন্য বাতিল করে দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল পদের জন্য আবেদনকারী কয়েকজন মুসলিম মহিলার আবেদনপত্র। এমনটাই অভিযোগ আবেদনকারী মহিলাদের।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এই পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য অ্যাডমিট দেওয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষা হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। এই পরিস্থিতিতে ফর্ম সংশোধনের কোনো সুযোগ দিচ্ছেনা ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ রিক্রুইটমেন্ট বোর্ড বলে জানিয়েছেন ওই আবেদনকারীরা। ফলে সম্ভবত এবছর পরীক্ষা দেওয়ার আর সুযোগ থাকছেনা আবেদনকারী ওই মহিলাদের।

সল্টলেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বোর্ডের দফতরে যান ওই মহিলারা। দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকি তাঁদের গ্রেফতারেরও হুমকি দেওয়া হয়। অফিস থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবেদন কারী ঐ মহিলারা। ইতি মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে সোস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী মহল। প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কোনো সরকারী অধিকারীক বা নেতা মন্ত্রীদের। হিজাব কাণ্ডে সরব হেয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিম বুদ্ধিজীবিরা। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সোস্যাল মিডিয়ায়। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম তীর্থস্থান ফুরফুরা শরীফ থেকেও পীরজাদারা প্রতিবাদ জানান।
সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুকে লম্বা পোস্ট করলেন সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র বিধায়ক পীরজাদা ন‌ওসাদ সিদ্দিকী। তিনি তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লেখেন…
আমাদের রাজ্যের অভিভাবিকা অর্থাৎ রাজ্যের মাননীয়া পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় মমতা ব্যানার্জিকে আমরা হিজাব পরিহিতা অবস্থায় দেখতে পায়, কিন্তু তার ডিপার্টমেন্ট পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে এডমিট কার্ড দিচ্ছেনা, রিজেক্ট করে দিচ্ছে এবং তার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে হিজাব অবস্থায় ছবি দেওয়াকে। এখানে তো একটা প্রশ্ন জাগে, রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী যে পোশাক পরে বাংলার কিছু মানুষের বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করেন, নিজেকে তাদের মসিহা প্রমান করার চেষ্টা করেন সেই পোশাক নাকি পুলিশে আবেদনের জন্য নয়। সেই পোশাক যদি সংবিধান বহির্ভূত না হয় তাহলে যারা পুলিশের অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার জন্য গিয়েছিল সল্টলেকে তাদের সাথে কেন এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হলো? তাহলে কি ডিপার্টমেন্টের মধ্যে কোন ধরনের একটা বৈষম্যতা প্রকাশ পাচ্ছে? কিছুদিন পূর্বে আমরা শুনেছিলাম এবং আমি নিজে, আক্রান্ত পুলিশ কর্মী সুরাপ হোসেনের বাড়িতে গিয়েছিলাম, সুরাপ হোসেন এবং তার পরিবারের লোকেদের সাথে কথা বলে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে ছিল সুরাপ হোসেনকে যে সমস্ত পুলিশ অফিসাররা মারধর করেছিলেন এবং উপস্থিত দায়িত্বশীল অফিসার ছিলেন তারা সেখানে বেশ কিছু বৈষম্যপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ করেছিলেন।

সেখানে আমি প্রেস বন্ধুদের একটা কথা বলেছিলাম যে, এই বৈষম্যপূর্ণ শব্দগুলো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কোন মন্তব্য নয় বরং এটা কোন পুলিশ অফিসারের নিজস্ব মন্তব্য হতে পারে। তবে যে সমস্ত পুলিশ অফিসার বা যারা এই ধরনের মন্তব্য করেছে ডিপার্টমেন্ট অবিলম্বে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিক। তার রেশ কাটতে না কাটতে এবারে আরও একবার সেই পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মধ্য থেকে নতুন করে আরও একবার বৈষম্যের ঘটনা সামনে এলো। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম পুলিশে নিয়োগের এডমিট ক্যানসেল করার অন্যতম কারণ হচ্ছে যে প্রার্থী হিজাব পড়ে ছিল। তাদের ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারলাম যে এটাও বলা হয়েছে, যদি এই বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয় তাহলে তাদের চাকরি জীবন নষ্ট করে দেওয়া হবে, কেস দেওয়া হবে ইত্যাদি।

এখানে প্রশ্ন তাহলে রাজ্যটা কোন দিকে এগিয়ে চলেছে? সংবিধানবহির্ভূত একের পর এক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যারা শাসক দলে আছে তাদের পক্ষ থেকে তো কোন শব্দ খরচ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে যারা প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে এই ধরনের সংবিধান বহির্ভূত কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা জনসাধারণ জানতে পারছেনা।

আমরা জানি, সংবিধান প্রদেয় রাইট টু ইকুয়ালিটি, আর্টিকেল ১৪ থেকে ১৮ পর্যন্ত আর্টিকেট গুলো আছে, সেগুলোকে ভায়োলেট করা হয়েছে বলে আমি মনে করি এক্ষেত্রে। ১৪ থেকে ১৮ আর্টিকেল গুলোর মূলবিষয়বস্তু হলো- “ভারতের প্রতিটি নাগরিককে সমতার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা”।

কিন্তু, দুঃখের বিষয় এখানে কি সেটা পালন করা হলো? রাইট টু ইকুয়ালিটি ১৫ নম্বর আর্টিকেলে উল্লেখ আছে “ধর্ম-বর্ণ-জাতি লিঙ্গ অথবা জন্মস্থান এর কারণে কাওকে পৃথকভাবে দেখা যাবে না”। তার মধ্যে কিছু সাব আর্টিকেল আছে সেগুলোর মধ্যে এক নম্বর যেটা আছে সেটা আপনাদের কাছে উদ্ধৃতি দিচ্ছি, আপনারা বুঝতে পারবেন যে আজকে যারা এই ধরনের অরাজকতা করছে যারা পোশাকের কারনে এডমিট ক্যান্সেল করে দিচ্ছে তারা কিভাবে সংবিধান লংঘন করার চেষ্টা করছে “ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ জন্মস্থান অথবা ভিত্তিতে রাষ্ট্র বা সরকার নাগরিকদের কাওকে পৃথক করে দেখবে না”। তাহলে এখানে আমার প্রশ্ন, হিজাব পরিধান করে ছিলো সেটা কোন ধর্মালম্বি সেটা বলার প্রয়োজন থাকেনা তার সাথে কি সেই ইকুয়ালিটির মান্যতা দেওয়া হলো? রাইট টি ইকুয়ালিটির ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে “রাজ্যের অধীনে সরকারি নিয়োগ এর বিষয় সমূহের সুযোগের সাম্যতা” সেখানে এক নম্বরে আছে “রাজ্যের অধীনে যেকোনো সরকারি কার্যালয়ে সকল নাগরিকদের জন্য সুযোগের সাম্যতা থাকবে”।

অ্যাডমিট না দিয়ে কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ইকুয়ালিটি পালন করা হলো? এটা আমাদের ভাবার বিষয় আছে কিভাবে দায়িত্বশীল আধিকারিরা সংবিধানের আর্টিকেলগুলোকে লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে। সংবিধান পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের, প্রত্যেকটা জনজাতির অধিকারের কথা বলে দিয়েছে, দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ক্ষমতার পূজারীগন সেই সকল অধিকারকে সংবিধানের মধ্যেই লিপিবদ্ধ করে রেখে দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছে না।

ন‌ওসাদ সিদ্দিকী আর‌ও বলেন,
সেজন্যে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট দলিত আদিবাসী মুসলিম সহ পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য লড়াই করে চলেছে, যাতে সংবিধানিক অধিকারকে সঠিকরুপে বাস্তবায়ন করা যায়।

আসুন দেখে নেয়া যায় দুই নম্বরে কি বলছে:- “ধর্ম-বর্ণ-জাতি জন্মস্থান অথবা যে কোন একটির জন্য সরকারের অধীনে কোনও কাজের ক্ষেত্রে বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনওরুপ বাছবিচার করা হবে না”। নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন, কিভাবে বৈষম্যতা শিকার হচ্ছে আজকে বিশেষ বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠীগুলো। সকল নাগরিকদের জন্য রাজ্য সরকারের অধীনে কোন পদে নিয়োগে সমান অধিকারের কথা বর্ণনা করে ১৬ নম্বর আর্টিকেল এক নম্বর উপধারা, ১৬ নম্বর আর্টিকেল এর দু’নম্বর উপধারা বর্ণনা করে “কোনো নাগরিক ধর্ম-বর্ণ-জাতি লিঙ্গ বংশ জন্মস্থান অথবা সেগুলির যে কোনওটির জন্য সরকারি কাজে অথবা সরকারি নিয়োগে বাছবিচার করা হবে না”। কিন্তু দুঃখের বিষয় ধর্ম এবং লিঙ্গের কারনে ডিপার্টমেন্ট বাছবিচার করেই ফেলল তাইনা? সংবিধানের ২৫ নম্বর আর্টিকেলে উল্লেখ আছে বিবেকের স্বাধীনতা, এবং স্বাধীনভাবে ধর্মশিক্ষার ধর্মাচারণের স্বাধীনতার কথা। এক্ষেত্রে কোনও মহিলা যদি পুলিশে নিয়োগের জন্য হিজাব পরিহিতা অবস্থার ছবি দেওয়ায় এডমিট কার্ড না পায় সে ক্ষেত্রে কি প্রশাসনের যে সংশ্লিষ্ট অফিসাররা ছিল তারা এমনটা করে কি সংবিধান বহির্ভূত কাজ করেনি? এই প্রসঙ্গে বলবে কে? পুলিশ মন্ত্রী নিরব কেন? আমাদের সকল গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ, যারা সংবিধানকে মান্যতা দেয় প্রত্যেকটা মানুষের আওয়াজ তোলা দরকার এ বিষয়ে। এ বিষয় অনেক কিছু বলা যায় আর মাত্র কয়েকটা কথা বলে শেষ করব, আমরা জানি ফান্ডামেন্টাল রাইটস এবং ফান্ডামেন্টাল ডিউটিস দুটোই আছে ফান্ডামেন্টাল ডিউটিস -এর মধ্যে একটা ডিউটি হচ্ছে “ধর্মীয় ভাষাগত এবং আঞ্চলিক শ্রেণীগত বিভিন্নতা নির্বিশেষে ভারতের সকল জনগণের মধ্যে ঐক্য এবং সাধারণ ভাতৃত্ববোধ স্থাপন করা, নারী জাতির প্রতি মর্যাদাহানিকর আচরণ ত্যাগ করা”। আপনারা বুঝতে পারছেন সংবিধান কি নির্দেশনা দিয়েছে, ওই সমস্ত নারীরা যারা গিয়েছিল এডমিট বাতিলের ব্যাপারে জানতে তাদেরকে প্রতিউত্তরে কি বলা হয়েছিলো? ‘যদি এই বিষয়ে কিছু বাড়াবাড়ি করা হয় তাহলে তাদেরকে কেসে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে বা চাকরি জীবন নষ্ট করে দেওয়া হবে ইত্যাদি। তাহলে এটা কি নারী জাতির প্রতি মর্যাদাহানিকর আচরণ করা হয়নি?

সংখালঘু মুসলমানরা রাজনীতির ঘুঁটি। সামাজিক-রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দাবার ছকে ঘুঁটির গুরুত্ব কমে বা বাড়ে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়।
মুসলমান সমাজের হাল ফেরে না, বাংলার রাজনীতিও তার ব্যতিক্রম নয়। দুর্ভাগ্য এই যে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও রাজ্যের এক চতুর্থাংশ মানুষ সংখ্যাগুরুর কাছে অবজ্ঞার পাত্র হয়েই রয়ে গেল। শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক আধিপত্যের জোরে, ইসলাম ও মুসলমানের সমাজ সম্পর্কে রাজনীতির মেরুকরণ উদাসীনতা ও অজ্ঞতা আজও অপরিসীম।আজও সংখ্যালঘুদের ওপর ঘুচলো না!’ ভোটব্যাঙ্ক ‘কিংবা’ মুসলিম তোষণ’ -এর যে প্রায় সর্বগ্রাসী মিথ্যা চিন্তা-চেতনা সমাজ রাজনীতির রন্ধে রন্ধে, তার নিরবিচ্ছিন্ন শুশ্রূষা প্রতি প্রয়োজন।

মুসলমান সমাজ কি কায়মনোবাক্যে এক? একটি একশিলা স্তম্ভের মতো। কোনও স্তরভেদ নেই ভাবনায়, জীবন-যাপনে, ধর্মে কিংবা অর্থনীতিতে! সত্যি সত্যি একযোগ হয়ে একটি দলকেই ভোট দেয় তারা, দিয়ে আসছে? এ প্রশ্ন সমাজতাত্ত্বিকদের বহুকালই ভাবিয়েছে। বার বার তাঁরা এর অসারত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এক রাজনৈতিক নির্মাণে, রাজনীতির প্ররোচনায় তাদের এক সমসত্ত্ব পদার্থ হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। বর্তমান বাংলায় এই ‘মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক’ রাজনীতি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের এক ও একমাত্র ‘ত্রাতা’ বা ‘মসিহা’ হয়ে ওঠার দৃষ্টিকটু প্রচেষ্টা সাধারণ ভাবে প্রায় কারোর-ই নজর এড়ায়নি। মাথায় চাদর চাপিয়ে ‘আমি তোমাদেরই লোক’ প্রমাণ করার সস্তার রাজনীতি না মুসলমানের মঙ্গল করেছে না।সাধারণ হিসেবে মুসলিম ভোটের প্রভাবে যে রাজনৈতিক দল বেশি লাভবান হোক না কেন। সরকারের দাক্ষিণ্যে বেশি লাভবান হওয়ার কথা ছিল সংখ্যালঘু মুসলমানদের, শিক্ষা-স্বাস্থ্য- কর্মক্ষেত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল মুসলমানদের।

কিন্তু মুসলিম দরদী সাজা সরকারের ভান্ডার ফুটলো সংখ্যালঘু সমাজের কাছে, ক্রমাগত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুসলমানদের ভাওতা দিয়েছেন মুসলমানদের মাসিহা। মুসলমানদের ভোট নিজে ঝুলিতে নেওয়ার জন্য চালু করেছিলেন ইমাম ভাতা। তোষণ ও ভাতার রাজনীতি মুসলিম সমাজকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে এই সরকার, এই সরকারের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন তাদের অবস্থার এতোটুকু উন্নতি হয়নি বরং অবনতি হয়েছে। তোষণ রাজনীতি মুসলমানদের ক্ষতি ছাড়া লাভ হয়নি। এই তোষণের অভিযোগের ফলে সংখ্যাগুরুদের চক্ষুশূল হতে হচ্ছে।

মাথায় চাদর চাপিয়ে ‘আমি তোমাদেরই মেয়ে’ সস্তার প্রচার শুরু হয়ে যায়।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক টাকে ঠিক রাখার জন্য মুসলিম দরদী সাজা শুরু হয়ে যায় ভোট এলেই! এ প্রশ্ন‌ও তোলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। কিন্তু প্রতিবাদ করা যাবেনা প্রতিবাদ করলেই পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয় এ রাজ্যে।

আরেকটু চাটুকারিতা ত্যাগ করে না হয় আপনি নিজেদের নিয়ে সচেতন হোন, তা নাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাদের ক্ষমা করবে না, তখন ছেলেমেয়েদের পরিযায়ী শ্রমিক করে কেরালা, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুতে পাঠাতে হবে দুর্ঘটনার শিকার হলে চাকরির কথা বলবেন মিডিয়ায় অথচ সেই চাকরিও জুটবে না এই অন্ধ দাসত্ব আমাদের ভালো করবে তো ? প্রশ্ন থাকলো না আপনাদের কাছে?

শেষে তিনি লেখেন..
এই প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা আদতে এক রক্তপাতহীন দীর্ঘস্থায়ী দাঙ্গার সমান। গোটা সমাজ এইভাবে এক অপমৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।
এই সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে প্রত্যেক কে তার সংবিধান প্রদেয় অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।

Facebook Comments